ধর্ম


আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৬ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা

আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির আশায় হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এ সময় অনেক যাত্রী জাবাল আল–রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছেন । ছবি: রয়টার্স


পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

 

জিলহজ মাসের নবম দিন ফজরের নামাজের পর থেকেই মিনার তাঁবুনগরী থেকে হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানের দিকে যাত্রা শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির-আসকার, কান্নাকাটি ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করছেন। সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়া, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।’

 

ইসলামী ঐতিহ্যে ‘ওকুফে আরাফাহ’ হজের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘হজ হলো আরাফাহ’। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের অন্যতম পবিত্র সময়।

 

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাত পাহাড়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, সমতা এবং জীবন-সম্পদের পবিত্রতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

দুপুরে আরাফাতে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে মসজিদে নববির ইমাম হজযাত্রীদের উদ্দেশে খুতবা দেবেন। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর আদায় করবেন।

 

হাদিসে বর্ণিত আছে, আরাফাহর দিনে মহান আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। এ কারণে হজযাত্রীরা এ দিনকে ক্ষমা লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে মনে করেন।

 

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর। এখানে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে বহু হাজি ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানের সঙ্গে হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্মৃতি জড়িত।

 

সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও সেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাজিদের বেশি পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

 

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে কসর আদায় করবেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। পরদিন ফজরের নামাজের পর শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করে আবার মিনায় ফিরবেন।


সম্পর্কিত

হজযাত্রীহজসৌদি আরব

জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?

ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।