তথ্যপ্রযুক্তি


সাবমেরিন ক্যাবল কি কাজে লাগে?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার

সাবমেরিন ক্যাবল কি কাজে লাগে?


ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমানে আমাদের জনজীবন কল্পনাই করা যায় না। আর এই ইন্টারনেট আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজ করে সাবমেরিন ক্যাবল।

সাব মানে হলো নিচে আর মেরিন মানে সমুদ্র। অথ্যাৎ সাবমেরিন ক্যাবল দ্বারা সমুদ্রের নিচে অবস্থিত কোনো তারকে বুঝায়।

বর্তমানে বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের নিরানব্বই শতাংশই সাবমেরিন ক্যাবলের উপর নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাপী একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে। যেগুলো একদেশ থেকে শুরু করে অন্যদেশ, এক মহাদেশ থেকে শুরু করে অন্য মহাদেশ তথা পুরো বিশ্বকে যুক্ত করেছে।

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলটি সফল ভাবে স্থাপন করা হয়েছিলো ১৮৫৮ সালে।

ট্র্যান্স-আটলান্টিক নামক সেই ক্যাবলটি ব্যবহারের মাধ্যমে টেলিগ্রাফের সংকেত আদান প্রদান করা হতো।

যা পরবর্তীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিশ্বে বর্তমানে চারশো ছয়টির বেশি সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে। যেগুলো প্রায় বারো লক্ষ কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

এক একটি সাবমেরিন ক্যাবল বিশ থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারে। 

সমুদ্রের নিচে ক্যাবল গুলোকে প্রচন্ড রকমের পানির চাপ সহ্য করে টিকে থাকতে হয়।

পাশাপাশি বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে এর ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকে। এমনকি জাহাজের নোঙ্গরের কারনে ও এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

এগুলোকে যে কোনো রকমের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে আট স্তর বিশিষ্ট করে তৈরি করা হয়।

যার মধ্যে সাতটিই কাজ করে নিরাপত্তা স্তর হিসেবে। আর একদম ভিতরের স্তরটি অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সমিশনের কাজ করে থাকে।

সমুদ্রের নিচে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা বিশ্বের অন্যতম কঠিন কাজ গুলোর একটি। এর জন্য কাজ করে বিশেষ ধরনের কিছু জাহাজ।

সাবমেরিন ক্যাবল মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে থাকে। ধাপ গুলো হচ্ছে টিয়ার 1, টিয়ার 2 এবং টিয়ার 3।

যে সকল কোম্পানি নিজ খরচে সমুদ্রের তলদেশে  সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করে তারা হচ্ছে টিয়ার 1। এরা কোনো দেশের লোকাল কোম্পানি গুলোর কাছে ইন্টারনেট বিক্রি করে।

টিয়ার 2 হলো লোকাল সিম কার্ড কোম্পানি এবং বড় বড় ইন্টারনেট পাবলিশাররা।  সর্বশেষ টিয়ার 3 হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার।

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে বিনামূল্যে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে ও
তথ্য পাচার হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।

ফলে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগও হারাতে হয়েছিলো।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে প্রায় সাতশো পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশ দুটো সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত আছে। 

২০০৮ সাথে আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় সাত লাখ।

আর তখন ইন্টারনেট ব্যবহার হতো মাত্র আট জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। 

কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় এগারো কোটি। যারা প্রায় ২৭০০ শো জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথ ব্যবহার করছে। 

তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির কারনে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৪ সালে চাহিদার পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ছয় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথে।

সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকার তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, যা চালু হবে ২০২৪ সালে।



জনপ্রিয়


তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

ইফতারে কোন মসজিদে বিরিয়ানি মিলবে- জানা যাবে অ্যাপে

রমজান মাস এলেই ইফতারে বিরিয়ানি পরিবেশন করা হচ্ছে এমন খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে নানা আলোচনা ও রসিকতা। এবার সেই কৌতূহলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিলেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামে একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালু করে ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্যাকেজিং পণ্য নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে রিমার্ক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের নজর কাড়েছে রিমার্ক এলএলসি ইউএসএর এফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান রিমার্ক সুপার প্যাক। ফেয়ারে রিমার্কের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত আধুনিক প্যাকেজি

বাজারে আসছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করা অনার এক্স৯ডি

অনার এক্স৯ডি দেশের বাজারে উন্মোচন করবে অনার বাংলাদেশ। এজন্য সম্পন্ন করা হয়েছে সকল প্রস্তুতি। সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব এবং শক্তিশালী ব্যাটারি পারফরমেন্সের মাধ্যমে এ স্মার্টফোনটি মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন সেগমেন্টে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে প্রত্যাশা করছ

জবিতে ফ্যাক্ট চেকিং ও ডিজিটাল হাইজেন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

‘ফ্যাক্ট চেকিং’ শীর্ষক সেশনে কীভাবে তথ্যবিভ্রাট হয়, গুজব কীভাবে ও কারা ছড়ায়, কীভাবে ফ্যাক্ট চেকিং ও ভেরিফিকেশন করতে হবে তা- হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।