

অফিসে অতিরিক্ত সময় কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে অভিনব এক মাউস বাজারে আনছে দক্ষিণ কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাং।যা নিজে থেকেই এর ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত সময় কাজ করা থেকে বিরত রাখবে এবং work life balance করতে সাহায্য করবে।প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কর্মীদের অফিসে আসার নিদিষ্ট সময় জানা থাকলেও অফিস থেকে বের হওয়ার নিদিষ্ট সময় জানা থাকে না।টার্গেট পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাদের। ফলে অফিসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সময় কাজ করা লাগে।অত্যাধিক কাজের চাপে কর্মীদের মানসিক ক্লান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হয়। পরিবারের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ না পাওয়া যায় না। পাশাপাশি ঠিকমত না ঘুমানোর প্রভাবে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রকম অসুখ। যার প্রভাবে তাদের কর্মক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্যামসাং ব্যালেন্স মাউস নামের বিশেষ ধরনের মাউস বাজারে আনছে। যেটি মানুষকে অফিসে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধা দিবে।স্যামসাংয়ের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কর্মী অফিসে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করতে চাচ্ছে।কিন্তু অফিস টাইম শেষ হয়ে যাওয়ায় মাউসটি কোনো ভাবেই কাজ করতে না দিয়ে তার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।যখনই ওই কর্মী মাউসটিকে ধরতে গিয়েছে তখন সেটি নিজ থেকেই উপরের খোলস থেকে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। যা দিয়ে কোনো ভাবেই আর কাজ করা সম্ভব নয়।স্যামসাং দাবি করছে মাউসটিকে তারা এমন ভাবে ডিজাইন করেছে যাতে সেটি মানুষের Work life balance এর উন্নতি করতে পারে।পাশাপাশি এটি কর্মীদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসের কাজ করতে উৎসাহিত করবে। কারন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেই আর কাজ করবে না সেটি।কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজ না করার ফলে কর্মীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিবে।বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, work life balance করে এমন কর্মীদের মেন্টাল হেলথ, অন্যদের তুলনায় ভালো থাকে। আবার তাদের উৎপাদনশীলতার পরিমাণ অন্যদের তুলনায় বেশি।যুক্তরাজ্যের ছয় দশমিক পাঁচ মিলিয়ন কর্মীদের উপর চালানো বিভিন্ন জরিপ থেকে দেখা যায় তাদের প্রায় ত্রিশ শতাংশই কর্মজীবনে অসূখী।প্রতি তিন জনের একজন অফিসের কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়া নিয়ে খুশি নয়। চল্লিশ শতাংশেরও বেশি কর্মী অফিসের কাজের কারনে জীবনের অন্যান্য বিষয় গুলোকে এড়িয়ে চলেন।বেশি সময় ধরে কাজ করার কারনে সাতাশ শতাংশের ও বেশি কর্মী ডিপ্রেশনে ভোগেন, চৌত্রিশ শতাংশেরও বেশি উদ্বিগ্নতা অনুভব করেন। প্রায় ষাট ভাগ কর্মী বেশির ভাগ সময় খিটখিটে মেজাজে থাকেন।দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মীর ব্যাক্তিগত জীবনে নেগেটিভ প্রভাব পড়ে অতিরিক্ত কাজের কারনে। পরিবারকে কম সময় দেয়া, শারিরীক এবং মানসিক স্বাস্থ্যগত কারনে এই প্রভাব পড়ে।ব্যালেন্স মাউস নিঃসন্দেহে এই সকল সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান দিতে পারবে বলে আশা করছেন অনেকে।তবে স্যামসাং কবে নাগাদ তাদের অভিনব এই মাউস বাজারে আনবে সেই বিষয়ে এখনও কেনো অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়নি।


