বাংলাদেশ


মিরপুরে চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তালিকায় বিএনপির নেতা-কর্মী সহ পুলিশের নাম


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৬ মে ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

মিরপুরে চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তালিকায় বিএনপির নেতা-কর্মী সহ পুলিশের নাম

মিরপুরের ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানপাট, যেখান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ । ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন খাতে দেড় শতাধিক স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে, যেখানে জড়িত ৭২ জন এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ২৫ জন। তালিকায় স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ মার্চ মাসে রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে। এতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জন এবং আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩১৪ জনের নাম রয়েছে। তালিকাটি থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও বিশেষ শাখার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়।

 

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী দোকান বসে। সিটি করপোরেশনের জায়গা দখল করে বসা এসব দোকান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তোলা হয়। স্থানীয় হকাররা জানান, দোকানভেদে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়, যা সংগ্রহ করেন ‘লাইনম্যান’ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় ফুটপাত, বাস-ট্রাক পার্কিং, অটোরিকশা গ্যারেজ, লেগুনা স্ট্যান্ড, বস্তি, নির্মাণকাজ, ঝুট ব্যবসা, ইন্টারনেট সংযোগসহ নানা খাতে চাঁদাবাজি চলে। এসব স্পট থেকে মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় হয়। শুধু মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার দোকান থেকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

 

পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, চাঁদা তোলার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী এবং পেশাদার সন্ত্রাসীরা জড়িত। পাশাপাশি কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদার অর্থ থেকে ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

গাবতলী বাস টার্মিনাল, শাহ আলী এলাকা, পল্লবী, রূপনগর ও দারুস সালামসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির একাধিক স্পট চিহ্নিত হয়েছে। কোথাও ফুটপাতের দোকান, কোথাও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, আবার কোথাও নির্মাণকাজ ও বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

 

পল্লবী এলাকায় ‘মামুন বাহিনী’ নামে একটি চক্র আবাসন প্রকল্প, বাজার ও বস্তি থেকে চাঁদা আদায় করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গাবতলী এলাকায় বাস টার্মিনাল ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

পুলিশ সূত্র জানায়, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং আরও অনেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সম্পর্কিত

মিরপুরচাঁদাবাজবিএনপি

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করল ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)

দেশের ডিজিটাল গণমাধ্যম খাতের অন্যতম সংগঠন ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ) সফলভাবে তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডিএমএফ-এর সদস্যবৃন্দ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু, এবং এর অগ্রগতি অনেকাংশেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

রিমার্কের ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কারের সুযোগ

হোমকেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড ব্যবসায়িক অংশীদার ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন আপনজন-০১ চালু করেছে। ৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত রিটেইলার বা বিক্রেতারা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার রিমার্ক পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাবেন।

মুজিবুল হকের উত্থানের নেপথ্যে কী? ‘আমেরিকান ডাক্তার’ পরিচয়, চিকিৎসা সাম্রাজ্য ও বিতর্কের অনুসন্ধান

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির শুক্রাবাদে অবস্থিত “আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্টেম সেল থেরাপি, অল্টারনেটিভ মেডিসিন এবং ফাংশনাল মেডিসিনের আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ড. এম মুজিবুল হক নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকান বোর্ড সার্টিফায়েড ডাক্তার’, ‘ফাইভ স্টার প্রফেসর’ এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার করে আসলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার পরিচয়, চিকিৎসা যোগ্যতা, স্টিমসেল ব্যবসা এবং রোগীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্ময়কর সব প্রতারণার তথ্য।