বাংলাদেশ


৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৬ মে ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার

৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

নেত্রকোনায় বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তালাকের হুমকির অভিযোগে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (৬ মে) সকালে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম আসামি জাকির আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেল হাজতে পাঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সোহেল তালুকদার।

 

অভিযুক্ত জাকির আহমেদ (৩৮) নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইসপিন্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।

 

মামলার বাদী তাঁর স্ত্রী মাহফুজা নাসরিন মুন্নী (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাটি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই ইসলামী শরিয়ত ও রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে জাকির আহমেদের সঙ্গে মুন্নীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে স্বামী তাঁর বাবার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

 

মামলার বিবরণে বলা হয়, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাকির আহমেদ স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি। তাঁদের সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর বিকেলে নেত্রকোনা শহরের কুরপাড় এলাকায় বাদীর বাবার বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে পুনরায় ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

 

বাদীর ভাষ্য, ওই বৈঠকে তিনি যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির আহমেদ বলেন, তিনি কোনো যৌতুক দাবি করেননি এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম জানান, কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় জেল হাজতে গেলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না।


সম্পর্কিত

ব্যাংক কর্মকর্তাযৌতুক

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সুনামগঞ্জে দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে হাজারো মানুষ

ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫ নম্বর চর কলাতলী ইউনিয়নে একটি খালের ওপর সেতু বা কালভার্ট না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে অন্তত চার হাজার মানুষকে।

ভোলায় বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ, দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

ভোলায় বিএনপি নেতা মো. জাকির ফরাজীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন তাঁর অনুসারীরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং পরীক্ষার্থীসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

মিরপুরে চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তালিকায় বিএনপির নেতা-কর্মী সহ পুলিশের নাম

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন খাতে দেড় শতাধিক স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে, যেখানে জড়িত ৭২ জন এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ২৫ জন। তালিকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে।