আন্তর্জাতিক
ইউরেনিয়াম নিয়ে দর-কষাকষি, সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ২ হাজার কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স | ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং এর বিনিময়ে জব্দ করা অর্থ ফেরতের বিষয়টি।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর এপ্রিলের শুরু থেকে বিরতি চলছে। এরপর বিভিন্ন টানাপোড়েনের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানান, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। একটি সূত্র জানিয়েছে, রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মিসর ও তুরস্কের সমর্থনে পাকিস্তান এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।
আলোচনায় ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণ করা। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রায় দুই হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান যেন ব্যবহার করতে না পারে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেশি। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপে থাকা ইরানের জন্য জব্দ করা অর্থ ফেরত পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইউরেনিয়ামের মজুত ও অর্থ ফেরতের পরিমাণ নিয়েই এখন দুই পক্ষের মধ্যে দর–কষাকষি চলছে। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে রাজি ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ইরান দাবি করেছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে ২ হাজার কোটি ডলার নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে বলেছেন, কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। যদিও তিনি সরাসরি ইরানের অর্থ ছাড়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
আলোচনায় একটি আপস-প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এতে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ইরানের ভেতরেই মান কমিয়ে ফেলা হবে।
খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের জন্য এ কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাব দেয়, বিপরীতে ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দেয়। মধ্যস্থতাকারীরা এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন।
এছাড়া প্রস্তাবিত চুক্তিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির জন্য ইরান পারমাণবিক গবেষণা চুল্লি ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। তবে সব পারমাণবিক স্থাপনা মাটির ওপরে রাখতে হবে এবং মাটির নিচে থাকা স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় রাখা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন, তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে এবং আলোচনা চলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে পুনরায় সংঘাত শুরু হতে পারে।
আগামী শুক্রবার তুরস্কে একটি কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
কোন এক শর্তে বিজয়কে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস?
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে জোট রাজনীতি। অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই সমর্থনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট শর্তও জুড়ে দিয়েছে দলটি—জোটে কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ রাখা যাবে না।

হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরান
পশ্চিম ইরানে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫।

সরকার গঠনে কংগ্রসের পর আরেক দলের সমর্থন চাইলেন বিজয়
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোট গঠনের তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়। কংগ্রেসের সমর্থনের আশ্বাস পাওয়ার পর এবার বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)-র কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন চেয়েছে তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)।

ক্ষমতা ছাড়বেন না মমতা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”








