বাংলাদেশ


ভোলার আড়াই শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট, নেই খাজনা-চাঁদা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৫ মে ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ভোলার আড়াই শ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট, নেই খাজনা-চাঁদা

ঈদুল আজহা সামনে রেখে ভোলাজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার দেড় শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ব্যতিক্রমী ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত ভোলা সদর উপজেলার গজারিয়া পশুর হাট। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মিয়া বাড়ির দরজার হাট’ নামেই বেশি পরিচিত।

 

প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো এই পশুর হাটে সপ্তাহে তিন দিন বেচাকেনা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের দাবি, প্রতিটি হাটে কয়েক কোটি টাকার গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচা হয়ে থাকে।

 

ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গজারিয়া বাজারসংলগ্ন বালিয়া মিয়া বাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসে এই হাট। ঈদ উপলক্ষে জেলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, দৌলতখান, চরপাতা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশি জাতের গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।

 

এই হাটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল, খাজনা বা চাঁদা নেওয়া হয় না। ফলে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পশু কেনাবেচা করতে পারেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এ কারণে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে হাটটিতে মানুষের ভিড় বাড়ে।

 

হাটে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা লোকমান হোসেন বলেন, “গজারিয়া বাজার ভোলার ঐতিহ্যবাহী কোরবানির পশুর হাট। এখানে কোনো দালাল নেই, খাজনাও লাগে না। তাই গরু বিক্রি করে পুরো টাকাটাই হাতে পাই।”

 

খামারি মাহফুজ বলেন, “অন্য হাটে একটি গরু বিক্রি করলে লাখে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনা দিতে হয়। এখানে খাজনা না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হন।”

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাজনামুক্ত এই পশুর হাটের ইতিহাস প্রায় আড়াই শ বছর আগের। মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর চাচাতো ভাই জামাল মিয়া জানান, তাদের পূর্বপুরুষ আরব আলী মিয়া একসময় দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার খাষেরহাটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে খাজনা আদায়কারীদের হয়রানির শিকার হন। পরে আত্মসম্মানের বিষয় বিবেচনায় নিজেদের বাড়ির সামনের মাঠে খাজনামুক্ত পশুর হাট চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজও হাটটি বিনা খাজনায় পরিচালিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর শত শত পশুর হাট বসে। তবে অধিকাংশ হাটে টোল, চাঁদা ও দালালচক্রের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়। স্থানীয়দের মতে, গজারিয়ার মতো খাজনামুক্ত পশুর হাট স্বচ্ছ ও ন্যায্যমূল্যে পশু কেনাবেচার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এসব পশুর হাট সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কোরবানির পশু বেচাকেনা আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা সম্ভব।


সম্পর্কিত

ভোলাপশুর হাট

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

বাংলাদেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি সেবা চালু করল পাঠাও পার্সেল

দেশের অন্যতম শীর্ষ সুপার অ্যাপ পাঠাও তাদের পার্সেল সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করেছে। গ্রাহকদের প্রয়োজন, সময় ও বাজেট বিবেচনায় আরও দ্রুত, নমনীয় এবং সাশ্রয়ী ডেলিভারি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক নতুন ডেলিভারি অপশন চালু করেছে।

ইইউবিতে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস গঠন, বিওটি ভেঙে দেওয়ার প্রচারণা গুজব: কর্তৃপক্ষ

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩৫(৭) অনুযায়ী একটি বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস গঠন করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনে মেন্টরিংয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন রফিকুল ইসলাম মাহিম

নিজের পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তরুণ ও বেকার যুবকদের ক্যারিয়ার গঠন এবং মানসিক সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও মেন্টর রফিকুল ইসলাম মাহিম। ‘নিজে যতটুকু জানি, ততটুকু দিয়েই অন্যের উপকার করা উচিত’ এই বিশ্বাসকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের জন্য গাইডলাইন, কাউন্সেলিং ও মেন্টরিং সেবা দিয়ে আসছেন ‘জব ইনফরমেশন বিডি’ (Job Information BD)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বিদেশে তিন কোম্পানি গঠনের অভিযোগ, এক বছরেও এগোয়নি জহিরুলের অর্থপাচার অনুসন্ধান

সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই অন্তত তিনটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অভিযোগে স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর আগে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অনুসন্ধান শুরুর এক বছর পার হলেও মামলার তদন্তে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।