
ঢাকা কলেজের হল আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকালের মধ্যেই হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশনা দেয়।
নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আক্রমণ পালটা আক্রমণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কমপক্ষে ৩৫ জন ছাত্র আহত হয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মাঝে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়। ভোরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার থেকে আবার শুরু হওয়া সংঘর্ষ রিপোর্ট লেখা সময় পর্যন্ত চলছিল।
ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ড. মো. আবদুল কুদ্দুস সিকদার জানান, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের ৩৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী পক্ষের ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
সংঘর্ষের পর পরই ঢাকা কলেজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনিবার্য কারণে ১৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স শ্রেণির সব ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সকল শিক্ষককে সকাল ১০টার মধ্যে কলেজে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধও করা হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে কমপক্ষে ৯ জন সাংবাদিক আহত হন। এর মধ্যে সময় টেলিভিশনের ৬ জন সংবাদকর্মী, দীপ্ত টিভির প্রতিবেদক আসিফ সুমিত এবং এসএ টিভির ক্যামেরা পারসন কবির হোসেনের অবস্থা গুরতর।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের রূঢ় আচরণের মুখে পড়েন খোদ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এক সময় ঢাকা কলেজের আবাসিক হল এলাকা থেকে প্রসাসনিক ভবনে আসেন লেখক। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.টি.এম.মইনুল হোসেনসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। তখন অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীরা লেখকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নীলক্ষেত-নিউমার্কেট ও সাইন্সল্যাব এলাকা। রাতভর সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আবারও ঢাকা কলেজের মেইন গেটের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ, দফায় দফায় চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ঘটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও। রড-লাঠি-ক্রিকেট স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মারধর করতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। সংঘর্ষ চলাকালে একটি রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকে চন্দ্রিমা মাকেটের সামনে এলে তাতে হামলা চালায় ব্যবসায়ীরা। এ সময় এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাপক ভাংচুরের শিকার হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ঢাকা কলেজের তিনজন ছাত্র নিউমার্কেটে একটি দোকানে কাপড় কিনতে যায়। সেখানে কাপড়ের দাম নিয়ে দোকানদারের সাথে ছাত্রদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে দোকানি ও তার লোকজন ছাত্রদের মারধর করে। মারধরের শিকার ছাত্ররা হলে ফিরে গিয়ে বিষয়টি জানালে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা একযোগে নিউমার্কেটের গেট ভেঙে ওই দোকানদারকে মারতে যান। এর মধ্যেই দোকানাররাও রাস্তায় নেমে আসে এবং দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ত্রিমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় একশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ। গুলি ছোঁড়ারও অভিযোগ করে ছাত্ররা, যদিও পুলিশ সে অভিযোগ অস্বীকার করে। রাতের সংঘর্ষ ভোরের দিকে পুলিশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে চন্দ্রিমা মার্কেটের তিন তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর নুরজাহান মার্কেটেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে এ অগ্নিকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে কিনা, নাকি নেহায়েত দুর্ঘটনা সে বিষয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেটের সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সাধারণত মঙ্গলবার নিউ মার্কেট এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তবে রমজান উপলক্ষে চাঁদ রাত পর্যন্ত প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম বুথসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান।


