ক্যাম্পাস
জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে ধীরগতি
মোশতাক তাহসিন, জবি প্রতিবেদক
★ ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ তিন বছরেও অসম্পূর্ণ
★ ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিন দফায়
★ দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দোহাই দিয়ে হয়নি বর্তমান ক্যাম্পাসের উন্নয়ন
২০১৬ সালে হল আন্দোলনের মুখে ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য একনেক সভায় ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।
পাওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণভাবে ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজটাও সমাপ্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৮৮.৬০ একর জমি৷ অধিগ্রহণ করতে এখনও বাকি ১১.৪০ একর জমি। এরইমধ্যে অতি ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীন নির্মাণের কাজ। পাশাপাশি সেখানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য চলছে একটি অস্থায়ী মাঠ নির্মাণের কাজও। শুধু এই সীমানা প্রাচীর নির্মাণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময় চায় এক বছর; তবে কর্মরত শ্রমিকদের দাবি দুই বছর লেগে যাবে প্রাচীর নির্মাণ করতে।
এদিকে ক্যাম্পাসের ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের অক্টোবরে। কিন্তু সেই কাজের মেয়াদ ইতোমধ্যে তিন দফায় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজের কচ্ছপ গতি বলেই দেয় তিন দফা বাড়িয়েও এই কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হবে প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স। এভাবে চলতে থাকলে যে আগামী এক দশকেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, তা বলাই যায়।
এদিকে আজও পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি নতুন ক্যাম্পাসের মাস্টারপ্ল্যান। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি ও ক্যাম্পাস নির্মাণের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরবানকে কাজ পাইয়ে দেন। তারা একটা মাস্টারপ্ল্যান তৈরিও করেন। সেটা প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রদর্শনও করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি মাস্টারপ্ল্যান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই বাতিল করেন।
মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের কাজের জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করেছে। এদের ভেতর থেকে মূল্যায়ন করা হবে। আশাকরি খুব দ্রুতই এটা নিয়ে বৈঠক করা হবে।
এদিকে কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের দোহাই দিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প'। ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশকপূর্তির অনুষ্ঠানে এসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানান।
ওই 'অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে'র অধীনে কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি দশতলা ছাত্র হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন ভেঙে ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের অধীনে একাডেমিক ভবন তৈরির জন্য ১২৬ কোটি ৪২ লাখ ও হল নির্মাণে ৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে কেরাণীগঞ্জে ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণায় আর এগোয়নি এই প্রকল্প। অথচ এতদিনে না হয়েছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দৃশ্যমান অগ্রগতি, না হয়েছে বর্তমান ক্যাম্পাসের সামান্যতম উন্নয়ন। ফলে, একে শুভঙ্করের ফাঁকি হিসেবেই ধরে নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর এই ফাঁকিবাজির জালে আটকে আজও আবাসন সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত দেশের অন্যতম সেরা এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। এখানে উল্লেখ্য, ছাত্রীদের জন্য ১৬ তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক হল নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন ১২০০ ছাত্রী।
এদিকে বিভিন্ন সময় নানা আন্দোলন সংগ্রামের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মেসভাড়া করে থাকতে গিয়ে টিউশনি বা অন্য উপার্জনের পথ বেছে নিতে হচ্ছে তাদের। এতে করে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে৷ আমরা চাচ্ছি দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো তৈরির কাজে হাত দিতে। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানের কাজ চলছে। আশাকরি দ্রুতই তা হয়ে যাবে।'
ভূমি অধিগ্রহণ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'সামান্য কিছু ভূমি অধিগ্রহণ করতে বাকি রয়েছে। এটার অধিগ্রহণও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শীঘ্রই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।'
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দখলকৃত হল উদ্ধারের দাবিতে বৃহত্তরে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। তখন কেরানীগঞ্জে হল নির্মাণের আশ্বাসে আন্দোলন বন্ধ করে তারা।
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
.jpg)
ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
.jpg)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী
দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।

.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)