ক্যাম্পাস


বর্ষাকে রাঙাতে প্রস্তুত বিইউপি, বন্ধুত্বের বন্ধনে বর্ষা আসছে ফিরে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ জুলাই ২০২৩, ১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার

বর্ষাকে রাঙাতে প্রস্তুত বিইউপি, বন্ধুত্বের বন্ধনে বর্ষা আসছে ফিরে
 প্রকৃতি ও বর্ষা যেন একে অপরের পরিপূরক। বৃষ্টি ও বর্ষা, নিয়ে কতই না লেখা হয়েছে গান, কবিতা কিংবা কাব্য। আর বাঙালীর কাছে বর্ষা মানেই যেন উৎসব। 

আর বর্ষার আসল সৌন্দর্য ধরা পড়ে গ্রামে। যেখানে প্রকৃতির সবুজের সাথে মিশে যায় টিনের চালে ঝিরঝিরে পড়া পানির শব্দ আর ছোট ছোট ছেলেপুলের একসাথে বৃষ্টিতে ভিজে গোসল করার  দৃশ্য যেন বর্ষাকে এনে দেয় পুর্ণতা। 

তবে শহুরে এ জীবনে বর্ষার আমেজ খুব একটা বোঝা না গেলেও বর্ষা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই তারুণ্যের। ফোঁটায় ফোঁটায় জল আর নীলাম্বরের নীলে মিলে মিশে শহুরের তারুণ্য খোঁজার চেষ্টা করে ভালোবাসা বন্ধুত্ব। 

বর্ষাকাল ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেলেও বর্ষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর শিক্ষার্থীরা " বর্ষা ও বন্ধুত্ব " প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে আগামী ১৯ এবং ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজন করতে যাচ্ছে “বর্ষা মিতালী ১৪৩০” বা বর্ষা উৎসব।

"ফোঁটায় ফোঁটায় নীলাম্বর নীলে,বন্ধুত্বের বন্ধনে বর্ষা এসেছে ফিরে" এই ট্যাগলাইনকে সামনে রেখে বর্ষাকে আপন করে নিতে বিইউপি লিটারেচার অ্যান্ড ড্রামা ক্লাবের আয়োজনে থাকছে বহুবিধ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।


বর্ষা উৎসবকে সফল করতে দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন আয়োজক ক্লাবটির সদস্যরা। ইতোমধ্যে " বর্ষা মিতালী -১৪৩০" উপলক্ষে বর্ণিল সাজে আল্পনার সাথে সেজে উঠেছে বিইউপি ক্যাম্পাস। লোয়ার প্লাজা থেকে শুরু করে কনকোর্স, আপার প্লাজা, মনপুরা লেক, থার্ডপ্লেস সবজায়গায় লেগেছে সাজসজ্জার ছোঁয়া। আর ভিন্ন ভিন্ন স্পটে বসেছে বাহারি সব ফটোবুথ। 


উৎসবের প্রথম দিন ১৯ জুলাই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে থাকছে গল্প লেখা প্রতিযোগিতা , নির্ধারিত কবিতা-আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং চিত্রগল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

এইসব প্রতিযোগিতার আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে বিউইপি এলডিসির সদস্যরা জানান, এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ঐতিহ্য ধারণ করার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীল মনন এর বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পাবে ।


এছাড়াও দুই দিন ব্যাপী এ উৎসবের শেষ দিন সমাপনী অনষ্ঠান, নাচ,গান, কবিতা -আবৃত্তি, মঞ্চনাটক সহ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামবে “বর্ষা মিতালী ১৪৩০” এর।  


বর্ষা উৎসবের অন্যতম আয়োজক বিইউপি লিটারেচার অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক নেযা মাহমুদ সকল ক্লাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "বর্ষামিতালী ১৪৩০ এর সফল আয়োজনে বিইউপি লিটারেচার অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব এর যেসকল মেম্বাররা নিরলস ভাবে কাজ করেছেন, বর্ষার রঙে সাজিয়ে তুলেছেন পুরো ক্যাম্পাসকে তাদেরকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। বর্ষার আর বন্ধুত্বের মিশেলে বর্ষামিতালী ১৪৩০ হয়ে উঠুক প্রাণোচ্ছল, চঞ্চল হাওয়া ভর করুক বন্ধুত্বের পালে।"

আর এ আয়োজন নিয়ে ক্লাব সভাপতি নওশীন তাবাসসুম শিফা এককথায় উচ্ছ্বাসিত এবং আবেগতাড়িত হয়ে জানান, "বর্ষা, বন্ধুত্ব এবং সাহিত্যের শক্তিকে একত্রিত করে বিইউপি লিটারেচার অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব এর উৎসর্গ এবং আবেগের চূড়ান্ত পরিণতি বর্ষা মিতালী ১৪৩০। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই আয়োজনটি শুধুমাত্র সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিতই করবে না, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

এ আয়োজনটি কে সফল ভাবে পরিচালনা করতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে ভুলেননি তিনি। আগামী ১৯ ও ২০ তারিখ ক্যাম্পাসের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে শিফা আরো বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে বৃষ্টির ফোঁটা এবং বন্ধুত্বের মাঝে জমে থাকা বর্ষা মিতালী ১৪৩০ এর চেতনাকে আলিঙ্গন করি।"

আর পুরো আয়োজনকে মনিটর করছেন বিউইপির ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক ও ক্লাব মডারেটর সুমাইতা মারজান। এবারের বর্ষা উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও এ আয়োজন সফল করতে ক্লাব সদস্য, বিইউপি অথরিটি ও পৃষ্ঠোপোষকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  

তিনি আরও বলেন, "বর্ষা আর বন্ধুত্বের জয়গান নিয়ে এসেছে আমাদের বর্ষা মিতালী ১৪৩০। ঝুম বৃষ্টি, তার মাঝে গোল হয়ে বসা বন্ধুত্বের ঝাঁক। নিমেষেই যেন কেটে যায় সহস্র মুহূর্ত। যে মুহূর্তগুলো জেগে থাকে জীবনের স্বর্ণব স্মৃতি হয়ে। তাই চলুন আরেকবার সবাই স্মৃতির পিরামিড থেকে একে একে হাতছানি দিয়ে ফেলা আসা সময়ে ডুবে যাই। হারিয়ে যাই নীলাম্বরের মেঘের খেয়ায় ভেসে।"


আর দুই দিন ব্যাপী এ আয়োজনের “ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে দূরবীন নিউজ। 
সেই সাথে পুরো আয়োজনকে সফল করতে  মিডিয়া পার্টনার হিসেবে চ্যানেল আই, ইয়ুথ এঙ্গেজমেন্ট পার্টনার হিসেবে ইয়ুথ স্কুল অব সোশ্যাল ইন্টারপ্রেনরস, লজিস্টিক পার্টনার হিসেবে আহবাব বুক শপ, রেডিও পার্টনার হিসেবে রেডিও কার্নিভাল, স্ন্যাকস পার্টনার হিসেবে কুপারস, ভিজুয়ালাইজেশন পার্টনার হিসেবে লেন্সটেপ, বুক পার্টনার হিসেবে বই বৃক্ষ, ফুড পার্টনার হিসেবে থ্রিফুড কাজ করছে।




বি/এস

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।