ক্যাম্পাস


জবিতে ছাত্রলীগের সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় হল আন্দোলন স্থগিত


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৩ আগস্ট ২০২৪, ০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

জবিতে ছাত্রলীগের সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় হল আন্দোলন স্থগিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঘোষিত হল উদ্ধার আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় আন্দোলন স্থগিত করেছে শিক্ষার্থীরা।সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় এ স্থগিতের ঘোষণা দেন সমন্বয়ক আবু বকর। তিনি শিক্ষার্থীদের হল আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি স্বার্থানেষী মহল ফায়দা লুটার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে হল আন্দোলনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে দাঙ্গা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা আছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। এ কাজে নামানো হতে পারে কোটা আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করা অস্ত্রধারীদের। 
এছাড়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরব ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদেরও। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জঙ্গী বলে আখ্যায়িত করা শিক্ষক-কর্মকর্তাও ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দিয়ে ক্যাম্পাসে আসার ঘোষণা দিচ্ছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হল উদ্ধার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে কোনভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না দেয়ার দাবি তাদের।
ফেসবুকে ইসমাইল হোসেন নামে এক জবি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আবার অনেক ছাত্রলীগের সিনিয়র জুনিয়রদের দেখলাম এখন হল আন্দোলনে খুব একাত্মতা প্রকাশ করতেছে,এখন এটা হাইস্যকর লাগে দেখলে।অথচ ক্ষমতায় থাকাকালীন উনাদেরকে হলের ব্যাপারে টু শব্দ করতে দেখি নাই,অথচ তাদের তখন সেই সক্ষমতা ছিল হল উদ্ধারের,তারা উদ্যেগ নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সাথে যুক্ত হতো।’
জবি শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ 'জবিয়ানস' এ লেখা হয়, ‘কিভাবে নিবেন জানিনা। আজ জবি নীলদলের (আওয়ামীপন্থী) শিক্ষকদের যে তিনটা যে গ্রুপ আছে তার মধ্য দুইটা গ্রুপ এক হয়ে মিটিং করেছেন। মিটিংয়ে তারা সিদ্ধান্তঃ নিয়েছেন তারা সবাই হল উদ্বার আন্দোলনে  শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে আবার ক্যাম্পাসে আসবেন। ১৫ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন নিয়ে যাবেন এবং একটা অরাজকতা এখানে সৃষ্টি হওয়ার প্রচন্ড শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আমরা আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ই হল আন্দোলনে আপনাদেরকে উৎসাহ দিয়েছি। তবে তাদের ফেসবুক সরব হওয়া কিন্তু ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাবসায়ীরাও আমাদের বিরুদ্ধে থাকবে আর আগামী ১৫ আগস্টে একটা অরাজকতা করে জগন্নাথ ইউনিটকে দুর্বল করা হবে। যেহেতু ক্ষমতায় তারা নেই তাই আমরা, ১৬ তারিখেও হল উদ্বার করতে পারব। কিন্তু এদের সুযোগ দেয়া ঠিক হবেনা। আর ১৬ তারিখের পরে যে হল আন্দোলনে যাবেন শুধু ট্রেজারার আর যেসব শিক্ষকেরা জগন্নাথে দালালী করতো না তাদের সঙ্গে নিয়ে আগাবেন।’
মিনহাজুল ইসলাম নামে অপর এক জবি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগামীকালের (মঙ্গলবার) হল আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার পরিকল্পনা জবি ছাত্রলীগের! অন্যদিকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনবিরোধী ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শিক্ষকরা।’

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।