ক্যাম্পাস


আইইউবিএটিতে ‘গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার

আইইউবিএটিতে ‘গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ‘গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি ও টেকসই ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর আয়োজিত এ সেমিনারে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়াঁ এবং সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদা খানমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং কী-নোট উপস্থাপন করেন। তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মানব আচরণ এবং ভোগ-ব্যবহার প্যাটার্নে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইইউবিএটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নারগিস পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সেমিনারে আইইউবিএটির শিক্ষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ড. এম. রেহান দস্তগীর ও ড. ফেরদৌস আহমেদ ঢাকার বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমাতে নগর সবুজায়নের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ মিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেশীয় বৃক্ষ প্রজাতি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সফল উদাহরণ তুলে ধরেন।

বিধান চন্দ্র পাল, প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রভা অরোরা এবং ইউনেস্কোর গ্রীনিং এডুকেশন পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ক্ষতিপূরণনির্ভর জলবায়ু কৌশলের পরিবর্তে উদ্ভাবনী ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মি. মাসুদ ইকবাল মোদ্দাস শামীম। তিনি দেশের পরিবেশনীতি, বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোকপাত করেন।

ইউনেস্কো বাংলাদেশ অফিসের প্রধান ড. সুসান ভাইজ বেলেম, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ সাসটেইনেবিলিটি কাঠামো বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা ও তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, “গ্লোবাল অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা স্থানীয় বাস্তবায়নে প্রতিফলিত হয়।” তিনি প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে দৈনন্দিন জীবনে সম্পদ সংরক্ষণের বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মরিয়ম সুলতানা ম্যারি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে সম্মানিত অতিথিদের স্মারক প্রদান ও গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, বাধ্যতামূলক পরিবেশ বিজ্ঞান কোর্স, বার্ষিক সাসটেইনেবিলিটি ডে পালন এবং বিভিন্ন কমিউনিটি উদ্যোগের মাধ্যমে আইইউবিএটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।