ক্যাম্পাস


দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ ‎‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিরুদ্ধে


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ ‎‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
‎‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শেরেবাংলা হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে হলরুম থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

‎ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী সোমবার (১৫ নভেম্বর) পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর এবং হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেরেবাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, আইন বিভাগের এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বাদশা-কে হল থেকে ডেকে ও জোরপূর্বক ধরে নিচে নামানো হয়।

এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, তাকে হলের মূল ফটকের সামনে নিয়ে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, আহসান উল্লাহ্‌, আকিবুর রহমান, সোহানুর রহমান সিফাত, রবিন মিয়াসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা নেতাকর্মী ঘিরে ধরেন। তার দেহ তল্লাশি করা হয় এবং হলে বৈধভাবে থাকার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, তাকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে আওয়ামী লীগের আমলে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে হলে থাকার অভিযোগ আনা হয়। পূর্বের একটি ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে রবিন মিয়া তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে “বাঁচতে দেওয়া হবে না” বলে ভয় দেখান। এ সময় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং সংঘবদ্ধভাবে মানসিকভাবে হেয় করা হয়।

ফয়সাল বাদশা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, একই রাতে মুক্তমঞ্চে উচ্চশব্দে কনসার্টের প্রতিবাদ করে হলে ফেরার পর রাত ১টার দিকে তাকে রুমের সামনে থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে লুঙ্গি ছাড়া অন্য কোনো পোশাক পরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। খালি গায়েই শীতের মধ্যে টেনে-হিঁচড়ে হলের নিচে নেওয়া হয়। তাকে প্রায় এক ঘণ্টা যাবত বেঞ্চ ও গেস্টরুমে বসিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

তার অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তাকে অবৈধ শিক্ষার্থী এবং শিবির সংশ্লিষ্টতারঅভিযোগ তুলে জোরপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এসময় তার খালি গায়ের ভিডিও ধারণ করে পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানো হয়।

দুই শিক্ষার্থীই অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, চারুকলা সংসদ আয়োজিত ‘মাঘমল্লার’ অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত শব্দদূষণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ক্ষোভের দায় তাদের ওপর চাপানো হয়। তাদের হুমকি দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে ছাত্রদলের নির্দেশ না মানলে “চরম পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘটনার পর তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং হলে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা 

সোহানুর রহমান সিফাত ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার তো কোনো প্রাসঙ্গিকতা নাই। হল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছে কিন্তু তারাও তো আমাদের এখনো কিছু জানাননি।
‎অপর অভিযুক্ত ববি ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, এবিষয়ে আমি তোমার কাছেই প্রথম শুনলাম। এমন কোনো ঘটনার কথা জানি না। আমি কিংবা মিজান কেউ সেখানে ছিলাম না। তবে ছাত্রদলের অন্য কেউ ছিল কিনা সেটা জানি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, এ বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা পেলে প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে।

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়াই জাকসুর ব্যানারে সেমিনার আয়োজন , অভিযোগ ভিপি জিতুর

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর ব্যানারে ‘গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রযাত্রার রাজনীতি: সংবিধানিক বৈধতার প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজনকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

মাভাবিপ্রবিতে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে তালা

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য (ভিসি) কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

একই খাতে দ্বৈত ফি আদায়: জবিতে ‘ইউনিয়ন ফি’ ঘিরে কোটি টাকার হিসাব উধাও

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই খাতে দুই নামে ফি আদায়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘ইউনিয়ন ফি’ ও ‘কেন্দ্রীয় সংসদ ফি’ এই দুই ধরনের ফি আদায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এর স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আদনান সাকিব।