ক্যাম্পাস
গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে জবি দর্শন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
.webp)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গবেষণা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা একজন ছাত্রলীগ নেতাসহ বিতর্কিত কয়েকজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হয় চলতি ১৫ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ২৯ নভেম্বর তিনি নতুন শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করেন। এই সময় নির্বাচন বোর্ড গঠন ও সুপারিশকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বোর্ড আহ্বান করে চেয়ারম্যান নিজের ‘পছন্দের প্রার্থী’ নিয়োগের পথ সুগম করেছেন। তাঁদের দাবি, বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে আরও অভিযোগ উঠেছে, জকসু নির্বাচনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপনে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হকের সঙ্গে চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতার কথাও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গবেষণায় অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়েও শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ রয়েছে।
এছাড়া, ‘জুলাই গণহত্যা’–সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘এক হাজার একজন শিক্ষক’-এর বিবৃতিতে তাঁর নাম থাকার কথাও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, এতসব বিতর্কের পরও প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাওন শেখ, জবি শিক্ষার্থী মৌসুমি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাওহে মাহফুজ—এই তিনজনকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে শাওন শেখের সঙ্গে অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের যৌথ গবেষণা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে শাওন শেখের নিয়োগ বাতিল ও পুরো নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) লিখিত আবেদনও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
দর্শন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও একাডেমিক মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ বিতর্কের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
.jpg)
ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
.jpg)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী
দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।


.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
