ক্যাম্পাস


শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার

শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) তীব্র শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার রুম সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষাজীবন ও সেশনজটের ওপর।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৭৬টি শ্রেণিকক্ষ। অথচ বর্তমানে মাত্র দুটি একাডেমিক ভবনে প্রায় ৩৬টি শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও কম্পিউটার রুম রয়েছে। বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় এই অবকাঠামো একেবারেই অপ্রতুল। ফলে একই শ্রেণিকক্ষে একাধিক বর্ষের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

 

শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি অনেক কক্ষে সাউন্ড সিস্টেম না থাকায় পেছনের সারির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কথা ঠিকমতো শুনতে পারছেন না। পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে অনেক বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং সেশনজট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

সমাজকর্ম বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতেই তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে লাইব্রেরির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।

 

বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা জানান, পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকায় একই ল্যাব একাধিক ব্যাচকে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে সময়মতো ব্যবহারিক কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না এবং সেমিস্টার পিছিয়ে পড়ছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পর্যাপ্ত কম্পিউটার রুম না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাসে সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

 

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষে কখনো পরীক্ষা, কখনো অন্য ব্যাচের ক্লাস চলায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহারিক সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার রুম ও সাউন্ড সিস্টেমের অভাবও রয়েছে।

 

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফকরুল ইসলাম বলেন, “শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও এই সংকটে ভুক্তভোগী। যদি আরও দুই-তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকত, তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হতো।”

 

লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা অনেক পিছিয়ে পড়েছেন। সময়মতো ক্লাস বাতিল হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শ্যামলীমা শহিদ খান জানান, অফিসিয়াল ক্লাস শুরু হওয়ার সময় সকাল ১০টা হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে অনেক সময় সকাল ৮টায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস পড়ায় সময়মতো পাঠদান করা সম্ভব হয় না।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থী ও বিভাগের তুলনায় বর্তমান অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। নতুন বিভাগ খোলা হলেও সেই অনুপাতে একাডেমিক ভবন নির্মাণে সময় লাগছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ পেতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

 

এই অবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও কম্পিউটার রুম সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত না হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


সম্পর্কিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।