জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে জকসুর সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা-গবেষণা সম্পাদককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে পৃথক আরেক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৫ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কক্ষে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জকসুর সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রথম আলো ও দৈনিক ইনকিলাব-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে জকসুর জিএস ও শিক্ষা-গবেষণা সম্পাদকের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে অনতিবিলম্বে ভুল তথ্য সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে জকসুর কয়েকজন সম্পাদকীয় সদস্যের দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক জনকণ্ঠ ও প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের নাম উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা জকসুর ব্যানার ব্যবহার করে মিথ্যা বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে জকসুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করা হয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়।
এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়, জকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে না। ওই বিবৃতিতে জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক রিয়াসুল রাকিব, পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক মাহিদ হাসান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ এবং সদস্য সাদমান সাম্য স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওইদিন ক্যাম্পাসে উত্তেজনার মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।


.jpg)







.jpg)
