সারাদেশ


ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৭ মে ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়

ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।

 

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরী ২০১৯ সালে স্থানীয় একটি মক্তবে পড়াশোনা শেষ করে। পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মক্তবের শিক্ষক ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর মা বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

 

অভিযোগের পর ২৬ নভেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ফেনীর আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

 

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মোজাফফর আহমদ এবং কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ফলে অভিযুক্তের ডিএনএর সঙ্গে তুলনামূলক মতামত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

পরবর্তীতে কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ শিশু কন্যার জৈবিক পিতা শনাক্ত করতে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পুলিশ।

 

তদন্ত চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী একপর্যায়ে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।

 

পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ আগস্ট কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং অভিযুক্ত ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাভোগ করা মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

অপরদিকে, কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর ওই ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”

 


সম্পর্কিত

ফেনীধর্ষণ

জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে অভিযানে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৩ সদস্য

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

রাজশাহীতে ডাম্প ট্রাকের চাপায় পথচারী নিহত, বিক্ষোভে দুই ট্রাকে আগুন

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় আক্কাস আলী খলিফা (৫৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বিড়ালদহ মাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সুনামগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬, আহত ৩

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে জালালপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ৫ জন নিহত হন।

ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঊনিশ মাইল এলাকা-এ মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (৩ মে ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।