আইরিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেই আইপিএল এর উদ্দেশ্যে ভারতে উড়াল দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। তাঁকে নিয়ে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তড়িঘড়ি করে প্রাইভেট জেট ভাড়া করে ভারত উড়িয়ে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস।
দিল্লির যে তোড়জোড় ছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিলো প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁকে খেলাতে চায় ম্যানেজম্যান্ট। তবে বাংলাদেশী ভক্তদের হতাশ করে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামানো হয় নি তাঁকে। বরং দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম।
আর মুস্তাফিজের না থাকা প্রথম ম্যাচ থেকেই ভুগিয়েছে দিল্লিকে। উদ্ভোধনী ম্যাচেই Lucknow Supergiants এর কাছে ৫০ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে দিল্লি।
তাঁর জায়গায় বল করা ভারতীয় পেসার Chetan Sakariya সেদিন ছিলেন বেশ খরুচে। ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৫৩ রান! দুই উইকেট ঝুলিতে পুড়লেও ইকোনোমি ছিল ১৩ দশমিক ২৫!
এতো খরুচে হওয়ায় স্বভাবতই এই ম্যাচে দিল্লি আস্থা রাখতে পারছে না তাঁর উপর।
মুস্তাফিজুর রহমান উইকেট কম নিলেও গত কয়েক সিরিজ ধরে তিনি বেশ কম ইকোনমি দিয়ে বল করে যাচ্ছেন। আইপিএল যে এবারের আসরে নতুন নিয়মে ‘Impact Player’ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই কম খরচায় বেশি ডট বল দিয়েই সেই Impact ফেলছেন মুস্তাফিজ।
আইপিএলে যেখানে ব্যাটারদের জন্য স্বর্গরাজ্য আর প্রায় প্রতিটি বোলারই যেখানে বেধম মার খান, সেখানেই মুস্তাফিজের ইকোনমি রেট মাত্র ৭ দশমিক ৮!
মুস্তাফিজুর রহমানের কাটার ও স্লোয়ার এতই কার্যকরী যে, আইপিএল এ তিনি বাউন্ডারি হজমের চেয়ে ডট বল দিয়েছেন অনেক বেশি। তা ছাড়াও ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট হিসেবে তাঁর কাটার ও স্লোয়ারে বরাবরই পরাস্থ হন ব্যাটাররা। তাই অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার অবশ্যই চাইবেন তিনি যেন তাঁর সেরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।
এবারের আইপিএল এ নিলামের আগেই মুস্তাফিজুর রহমানকে ধরে রেখেছিল দিল্লি।
যদিও গত মৌসুম টা খুব একটা ভালো যায় নি মুস্তাফিজের। প্রথম সাত ম্যাচ একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, তবে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি।
বল হাতে ভালো পারফরমেন্স করতে না পারায় একাদশ থেকে বাদ পড়েন তিনি। তার জায়গায় একাদশে খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার এনরিক নরকিয়া।
তাই এবারও দিল্লির একাদশে সুযোগ পেতে হলে এই এনরিক নরকিয়ার সাথে লড়াই করতে হবে মুস্তাফিজুর রহমানকে।
নেদারল্যান্ডের সাথে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দিল্লি শিবিরে যোগ দিয়েছেন এনরিক নরকিয়া। তাঁর সাথে আছেন আরেক প্রোটিয়া পেসার Lungi Ngidi.
দিল্লির একাদশে চার বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার এবং রভম্যান পাওয়েলের একাদশে থাকা এক প্রকার নিশ্চিত। বাকি দুইটি জায়গায় ব্যাটিং পজিশনে লড়াই করতে হবে মিচেল মার্শ এবং রাইলি রুশোকে। তবে এই দুজনের মধ্যে মিচেল মার্শের একাদশে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বাকি একটি পজিশনে এনরিক নরকিয়া, Lungi Ngidi এবং মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে থাকবে যে কোন একজন। সম্প্রতি বাংলাদেশের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজের যে পারফরমেন্স, তাতে করে তিনি সেরা একাদশের বিবেচনায় থাকবেন কি না সেটাই দেখার বিষয়।
পার্ফম্যান্স বিবেচনায় আপাতত মুস্তাফিজের চেয়ে হয়তো এনরিক নরকিয়াই বেশি এগিয়ে থাকবে। তবে আইপিএল এ নতুন নিয়ম হিসেবে যেহেতু ‘’Impact Player’’ খেলানো যায়, অধিনায়ক হয়তো মুস্তাফিজকে সেভাবেই খেলাতে পারে।