অপরাধ
স্কুলে না গিয়েই বেতন! কাজিপুরে ‘গায়েবি শিক্ষক’ মুঞ্জুরুলের অনিয়ম ফাঁস
জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর থেকে মাস তিনেক মেডিকেল ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। অথচ সেই ছুটির পর থেকেই চলতি বছর ২০২৫ ইং জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন হাজিরা খাতায় তার ‘উপস্থিতি’ দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের কয়েকজন স্টাফ জানান, হেড স্যার মাঝে মাঝে এসে অগ্রিম সাইন করে রেখে যান। আবার কেউ কেউ বলছেন, অফিসের চাবি তার কাছেই থাকে—তিনি রাতে এসে সাইন করে যান।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলছে, “সরকার পতনের পর একদিনও হেড স্যার স্কুলে আসেননি।” স্থানীয় এক বিদ্যায়ের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “স্কুলে না এলেও এক সহকারী শিক্ষক মাঝে মাঝে হাজিরা খাতা নিয়ে গিয়ে সই করিয়ে নিয়ে আসেন।”
অভিযুক্ত মুঞ্জুরুল ইসলাম (শিপন চাকলাদার) নিষিদ্ধ ঘোষিত তেকানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুলে এসে শুধু হাজিরা খাতায় সই করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকতেন।তৎকালীন সরকার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। শিক্ষা অফিসও তখন দেখেও না দেখার ভান করত।সরকার পরিবর্তনের পরেও তার সেই ‘অদৃশ্য প্রভাব’ বহাল রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে ওই ক্লাস্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্যালয়টি সঠিক ভাবে তদারকি করেছে কি-না তা নিয়ে জনমনে উঠেছে বিভিন্ন প্রশ্ন।
মুঞ্জুরুল ইসলামের ( শিপন চাকলাদার) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, “আমি মেডিকেল ছুটির আবেদন করেছি।" বিদ্যালয়টি তদারকির অভাব রয়েছে এমন প্রশ্নে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদের কাছ থেকে কোন সদ উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন, “এখনও আমি কোনো মেডিকেল ছুটির আবেদন হাতে পাইনি।”তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানলাম খুব দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক এবং শিক্ষক সমাজ। প্রশ্ন উঠেছে— একজন শিক্ষক মাসের পর মাস স্কুলে না এসেও কীভাবে সরকারি বেতন পাচ্ছেন? কে দিচ্ছে তার হয়ে স্বাক্ষর? শিক্ষা অফিস কি জেনে বুঝেই নীরব?এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয়রা।
জনপ্রিয়
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল
ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি
হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

.jpg)







