অপরাধ


মাজারে পুলিশের অভিযান, পাওয়া গেলো গোপন সুড়ঙ্গ ও ২ কেজি গাঁজা


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

মাজারে পুলিশের অভিযান, পাওয়া গেলো গোপন সুড়ঙ্গ ও ২ কেজি গাঁজা

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ভোরবেলা চালানো পুলিশের বিশেষ অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুড়ঙ্গপথ, তালাবদ্ধ কক্ষ এবং বিলাসবহুল ব্যবস্থার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল সংগঠিত মাদক কারবার এমনটাই জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা এই অভিযান চালানো হয়। এতে হাজী মাজার বস্তি, কেরানীর টেকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

অভিযান চলাকালে বস্তির ভেতরে একের পর এক তালাবদ্ধ কক্ষ ভেঙে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় দুই কেজি গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। পুলিশের দাবি, এসব আলামত থেকে স্পষ্ট হয় যে এলাকাটিকে কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।

 

পুলিশ জানিয়েছে, বাইরে থেকে পরিত্যক্ত বা বন্ধ মনে হলেও এসব কক্ষের ভেতরেই চলত মাদক বিক্রি ও সেবন। অনেক কক্ষেই ছিল পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, যা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যেত।

 

অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে গোপন সুড়ঙ্গপথের সন্ধান। একাধিক কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত এসব পথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে অভিযানের সময় দ্রুত পালিয়ে যাওয়া বা মাদক সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া কয়েকটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও পাওয়া গেছে, যা এই অবৈধ কার্যক্রমের সংগঠিত চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, তাদের থানার পক্ষ থেকে ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তাদের অভিযানে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুল হক বলেন, দুই কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

অভিযানের সার্বিক তদারকিতে থাকা গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে চিহ্নিত মাদক বিক্রয়কেন্দ্রগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটিতে মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল। তবে এবারের অভিযানে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেককেই বিস্মিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে মাদক নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

 

 


জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ওই মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

১৫ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়: ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন তিনজনের

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কমিশন ছাড়া নড়ত না ফাইল, সওজ প্রকৌশলীর সিন্ডিকেটে জিম্মি পুরো ঠিকাদার মহল

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অনুসন্ধান চললেও এখনো তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমিরাতপ্রবাসীদের ঠকিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ চক্র সক্রিয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে জাল সনদ তৈরি করা হতো।