অপরাধ
ভোলায় প্রেমিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে সিলেটের তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
.webp)
অভিযুক্ত- আল-আমীন (২৫) ও মাকসুদ (৩০) | ছবি: সংগৃহীত
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা সিলেটের এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায়ের চেষ্টা ও প্রতারণার মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা স্লুইসগেট এলাকায়।
এ ঘটনায় আল-আমীন, মাকসুদ, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ফরাজি ও শাহিন এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা থেকে মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে পৌঁছান সাদিয়া। পরে তার প্রেমিক সজিব তাকে তার দাদির বাড়িতে নিয়ে যান। সজিব উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সজিব সাদিয়াকে তালতলা স্লুইসগেট এলাকায় তার চাচার বাড়িতে নিয়ে গেলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা বিয়ের কথা বলে সজিবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দুই লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিয়ের ব্যবস্থা হবে এই আশ্বাসে সজিবের দাদি অভিযুক্ত ইদ্রিস মাঝিকে চার হাজার টাকা দেন।
সজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইদ্রিস মাঝি বিয়ের কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের করেন। পরে ‘নৌবাহিনী আসছে’ বলে ভয় দেখিয়ে তাকে নতুন বেড়িবাঁধের ওপারে নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আল-আমীন, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ও শাহিন তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে সজিব পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলে অভিযুক্তরা সাদিয়াকে জোর করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, ওই রাতেই সাদিয়াকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে এক যুবক “আমার বউকে বাঁচান” বলে চিৎকার করলে তারা ঘটনাস্থলের খোঁজ শুরু করেন। পরে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি অভিযুক্ত আল-আমীনের বলে জানা যায়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শাহিন সাদিয়াকে একটি বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে সাদিয়া জানান, আল-আমীন ও লোকমান তাকে ধর্ষণ করেছে এবং ঘটনার সময় ইদ্রিস মাঝি সেখানে উপস্থিত ছিল।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় শুরু থেকেই ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক নারীকে (২২) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়।

মিরপুরে নয়নের ‘মাদকের সাম্রাজ্য’, ধরাছোঁয়ার বাইরেই মূল হোতা!
রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোড এলাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা। এই এলাকার মাদকের একক নিয়ন্ত্রণ এখন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নয়নের হাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এই ‘মাদকের সাম্রাজ্য’ চালিয়ে আসলেও নয়ন রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঈদযাত্রা ঘিরে চাঁদাবাজি: হাতেনাতে আটক ২
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম নুরুল আমিন। তিনি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক।


.jpg)






