অর্থনীতি


প্রশিক্ষণের নামে প্রকল্পের অর্থ নগদ উত্তোলন: বাংলাদেশ ব্যাংক–এর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

প্রশিক্ষণের নামে প্রকল্পের অর্থ নগদ উত্তোলন: বাংলাদেশ ব্যাংক–এর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা নগদ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যয় দেখিয়ে তহবিল থেকে অর্থ তোলা হলেও তা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের নামে উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ–বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে জানাজানি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি যাচাই–বাছাই শুরু করেছে।

 

 

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কারা

অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন পরিচালক মুনিরা ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক টুটুল হোসেন মল্লিক এবং যুগ্ম পরিচালক প্রশান্ত মোহন চক্রবর্তী। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দুই মাসে তিন দফায় থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ সফরে যান।

 

নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ফি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে পাঠানোর কথা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নগদ অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ।

 

মুখপাত্রের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলো–কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানোর কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সফরের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অর্থের ব্যবহার যাচাই করা হবে।

 

যে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন

২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে ‘সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসএমইডিপি-২)’ শীর্ষক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্প্রসারণ।

 

মূল প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত অর্থ থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে ৯৫০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা হয়। ওই বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সুদ আয় হয়। এর মধ্যে ৪০ কোটি টাকা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হয় এবং বাকি ৬ কোটি টাকা গবেষণা ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়।

তদন্তের অপেক্ষা

অভিযুক্ত চার কর্মকর্তার একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি নিয়ে মুখপাত্রের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন।

 

অভিযোগের সত্যতা ও অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সম্পর্কিত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

৪ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে ফের টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

২ জুলাই ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে টানা দুই দফা স্বর্ণের দাম কমার পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

৬৩ পয়সার লিজ প্রস্তাবে ৪৪ কোটি টাকা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছিলেন বশির

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।