ফিচার
মুক্তিযুদ্ধের অদম্য চেতনার প্রতীক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্য শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, এটি বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ ও অদম্য সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। ২৩ ফুট উঁচু বেদির ওপর অস্ত্র হাতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন সংগ্রামী পুরুষ আর তাদের পাশে সমান শক্তি ও প্রত্যয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক সংগ্রামী নারী এই দৃশ্য যেন ১৯৭১-এর রক্তঝরা ইতিহাসকে প্রতিদিন নতুন করে চোখের সামনে হাজির করে।
ভাস্কর্যের প্রতিটি ভঙ্গিমায় ফুটে উঠেছে স্বাধীনতার জন্য বাঙালির ইস্পাতকঠিন সংকল্প। বিশেষ করে নারীর উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ও অবদানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় েএই দেশ শুধু অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, বরং মা-বোন, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার পর সাধারণ মানুষ যেভাবে সর্বাত্মক প্রতিরোধে নেমে পড়েছিল, ‘অদম্য বাংলা’ সেই ইতিহাসকেই দৃশ্যমান রূপ দিয়েছে। কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কেউ আশ্রয় দিয়েছেন, কেউ চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এই সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
স্থপতি গোপাল চন্দ্র পালের নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যের নামকরণ করা হয় ‘অদম্য বাংলা’। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৫৬তম অধিবেশনে নামটি চূড়ান্ত করা হয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হয়, যেখানে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা। একই বছর ভাস্কর্যটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২১ বছর পর নির্মিত এই ভাস্কর্য এখন ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রধান পরিচিতি।
আজ ‘অদম্য বাংলা’ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে প্রতিদিনের অনুপ্রেরণার উৎস। ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই ভাস্কর্য। এক শিক্ষার্থী বলেন, ভাস্কর্যটির দিকে তাকালেই ১৯৭১-এর সেই আত্মত্যাগী মানুষগুলোর কথা মনে পড়ে। এটা আমাদের দেশপ্রেম নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
পাথরের গাঁথুনির বাইরে ‘অদম্য বাংলা’ আসলে এক অদৃশ্য শক্তি যা নীরবে বলে যায়, স্বাধীনতা কখনোই সহজে আসে না, আর সেই স্বাধীনতাকে ধরে রাখতেও প্রয়োজন অদম্য চেতনা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
ফিচার থেকে আরও পড়ুন
আমার ভোট, আমার ভবিষ্যৎ : ৪ শিক্ষার্থীর ৪ দৃষ্টিভঙ্গি
আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন মানেই শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ঠিক করার মুহূর্ত। আর সেই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড়ো অংশীদার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
.jpg)
শৈশবের রচনার স্বপ্ন থেকে রাজনীতির বাস্তব ময়দান
মানুষের সেবায় রাজনীতিতে তিন চিকিৎসক ছোটবেলায় আমরা যখন ‘Aim in Life’ রচনা লিখতাম, প্রায় সবাই একই কথা লিখতাম,বড় হয়ে ডাক্তার হব, গ্রামে ফিরে গিয়ে মানুষের সেবা করব। তখন সেটা ছিল কাগজে-কলমের স্বপ্ন।

ক্লাসরুমের বাইরে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচিয়ে রাখেন
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সকাল মানেই শুধু ক্লাসে ছুটে চলা শিক্ষার্থী বা করিডোরে শিক্ষকদের ব্যস্ত পায়ে হাঁটা নয়। সাতারকুল–বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে প্রতিটি সকাল শুরু হয় আরও আগে শহরের কোলাহল জেগে ওঠার আগেই। ক্লাসরুমে লেকচার শুরুর বহু আগে য
.webp)

.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)