ফিচার
আমার ভোট, আমার ভবিষ্যৎ : ৪ শিক্ষার্থীর ৪ দৃষ্টিভঙ্গি
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন মানেই শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ঠিক করার মুহূর্ত। আর সেই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড়ো অংশীদার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
তারা শুধু আজকের ভোটার নয়, আগামী দিনের কর্মশক্তি, গবেষক, প্রকৌশলী, শিল্পী ও নীতিনির্ধারক। তাই তারা কেমন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে সেটা জানা এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন বিভাগের চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে উন্নয়ন, কাজের সুযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা।
“প্রকল্প নয়, টেকসই উন্নয়ন চাই”
মোঃ অনন্ত ইসলাম
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
একজন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী হিসেবে অনন্ত ইসলাম এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় প্রকল্পের ঘোষণা নয়; বরং কাজের মান, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। তার মতে, অতীতে বহু অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি চান, ব্রিজ, রাস্তা, বিল্ডিং সবখানেই ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক, যাতে রাজনৈতিক চাপ নয়, প্রযুক্তিগত মানদণ্ডই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। পাশাপাশি তিনি গুরুত্ব দেন গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের ওপর।
অনন্ত বলেন, মেধাবী অনেক ইঞ্জিনিয়ার গবেষণা ও কাজের সুযোগ না পেয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশে যদি আধুনিক গবেষণাগার, উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার ও উইন্ড এনার্জি নিয়ে কাজের সুযোগ বাড়ে, তাহলে আমরা দেশেই বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারব।
“ভয়মুক্তভাবে কথা বলতে চাই”
মোঃ হাসান
ইতিহাস বিভাগ
ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ হাসানের প্রত্যাশা একটি গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও ভয়মুক্ত বাংলাদেশ। তার ভাষায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা শুধু সংবিধানের শব্দে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব জীবনেও মানুষ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সেটাই জরুরি।
তিনি মনে করেন, ভিন্ন মত মানেই শত্রু এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক ভিন্নতা গণতন্ত্রের অংশ, দমন নয়; সহনশীলতা হওয়া উচিত তার ভিত্তি।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়েও তার উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংসতা ও দখল রাজনীতির বদলে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়াকে তিনি আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখেন।
“ডিগ্রি নয়, কাজ চাই”
লিমা আক্তার
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লিমা আক্তারের মতে, আজকের তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি না পাওয়া। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ডিগ্রি অর্জনের পরও কাজের সুযোগ না মিললে সেই ডিগ্রির মূল্য নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত হলেও চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বিপুল। তাই প্রাইভেট সেক্টর, স্টার্টআপ, আইটি ও সার্ভিস খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
লিমার মতে, শুধু ডিগ্রি নয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি ইউনিভার্সিটি সংযোগ জোরদার করতে হবে। আর নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতাই যেন প্রধান বিবেচ্য হয়। “তরুণদের বেকার বোঝা নয়, কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে” বলেছেন তিনি।
“স্লোগান নয়, ধারাবাহিক প্রযুক্তি নীতি চাই”
মোঃ রায়হান চৌধুরী তুষার
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান চৌধুরী তুষারের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু স্লোগান বদলালেই চলবে না; প্রযুক্তি নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রযুক্তিকে তিনি দেখেন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে।
তার মতে, প্রতিটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক গবেষণাগার ও ইনোভেশন ফান্ড থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি নয়, উদ্ভাবন ও গবেষণায় অবদান রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ফ্রিল্যান্সার, স্টার্ট-আপ ও আইটি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ট্যাক্স সুবিধা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি সেবাগুলোকে সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল ও ঝামেলামুক্ত করতে না পারলে প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
“প্রযুক্তি পোস্টারের বিষয় নয় এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি,” মনে করেন তিনি।
তরুণদের ভোট, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
এই চার শিক্ষার্থীর কথায় উঠে এসেছে উন্নয়নের মান, কর্মসংস্থান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রের স্বপ্ন। তাদের প্রত্যাশা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এলেও মূল বার্তা এক তারা এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সুযোগ, ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনের ব্যালটে হয়ত একটি প্রতীকই থাকবে, কিন্তু তরুণদের মনে থাকবে একটি বড় প্রশ্ন আগামী সংসদ কি সত্যিই তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাববে?
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেই ভাবনায় তুলে ধরেছেন ডিআইইউ প্রতিনিধি মো. হৃদয়।
- লেখক: মো. হৃদয়, ডিআইইউ প্রতিনিধি
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
ফিচার থেকে আরও পড়ুন
শৈশবের রচনার স্বপ্ন থেকে রাজনীতির বাস্তব ময়দান
মানুষের সেবায় রাজনীতিতে তিন চিকিৎসক ছোটবেলায় আমরা যখন ‘Aim in Life’ রচনা লিখতাম, প্রায় সবাই একই কথা লিখতাম,বড় হয়ে ডাক্তার হব, গ্রামে ফিরে গিয়ে মানুষের সেবা করব। তখন সেটা ছিল কাগজে-কলমের স্বপ্ন।

ক্লাসরুমের বাইরে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচিয়ে রাখেন
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সকাল মানেই শুধু ক্লাসে ছুটে চলা শিক্ষার্থী বা করিডোরে শিক্ষকদের ব্যস্ত পায়ে হাঁটা নয়। সাতারকুল–বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে প্রতিটি সকাল শুরু হয় আরও আগে শহরের কোলাহল জেগে ওঠার আগেই। ক্লাসরুমে লেকচার শুরুর বহু আগে য
.webp)
মুক্তিযুদ্ধের অদম্য চেতনার প্রতীক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ‘অদম্য বাংলা’ ভাস্কর্য শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, এটি বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ ও অদম্য সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। ২৩ ফুট উঁচু বেদির ওপর অস্ত্র হাতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন সংগ্রাম


.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)