

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার যেন একক আধিপত্য সাম্প্রতিক ফুটবলে। কুরাসাওকে এক প্রকার ছেলে খেলা করে, ছেড়ে দিল মেসিরা। ১০০ তম গোল তো করলেনই মেসি, সেই সাথে কুরাসাওকে ভাসিয়ে দিলেন গোল বন্যায়। ম্যাচের ৩৭ মিনিটেই ৫ টি গোল। শুধু মেসিরই ৩টি। আর্জেন্টিনার রাজধানি বূয়েন্স এইরেসের ভক্তরা মেতেছে আনন্দে উৎসবে। কুরাসাওয়ের ডিফেন্স যেন তাসের ঘর ।যে শট নিয়েছে তাদের গোলপোস্টে, গোল বঞ্চিত থাকেনি সে।বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে দাড়াতেই পারেনি কুরাসাওরা। শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল গোল বন্যা বয়ে যাবে এই ম্যাচে। হয়েছেও তাই, যে গোল শো শুরু হয়েছে মেসিকে দিয়ে, সেটা শেষ হয়েছে ডিফেন্ডার মন্টিয়েলকে দিয়ে। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাঝেই মেসি সুযোগ পেয়েছেন দুটি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো গোলের মুখ দেখেনি ।তবে গোল পেতে বেশি সময় লাগেনি আলভিসেলেস্তেদের । ২০ মিনিট থেকে শুরু, গোল শো, দীর্ঘদিন পর ইঞ্জুরি কাটিয়ে দলে ফেরা লো সেলসোর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে, মেসির ডান পা থেকে দারুন এক গোল।সেই সাথে আকাশি-নীল জার্সি গায়ে পৌঁছে গেছেন তিনি শততম গোলে।শততম গোলস্কোরারের ৩য় ফুটবলার লিও মেসি। এর আগেই গোলের সেঞ্চূরিটা সেরে ফেলেছেন তার চির প্রতিন্ধন্ধি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১০০ গোলের দিনে ম্যাচটাকে রাংগিয়ে দিলেন লিও মেসি স্মরনীয়ভাবে। ২২ মিনিটের মাথায় নিকো গঞ্জালেসের আরো একটি গোল। দারুন এক হেডে গোল করে ব্যবধান দিগুণ করেন ,বহুদিন পর দলে চান্স পাওয়া নিকো। এখন থেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এক্সপেরিমেন্ট শুরু করে দিয়েছেন কোচ স্কালোনি। আর তাইতো বিশ্বকাপের শক্তিশালি দল টার পাশাপাশি, তরুনদেরকে দিয়েও দল সাজানোর চেস্টায় রয়েছেন তিনি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে গোল এসেছে, কুরাসাওয়ের ফাকা ডিফেন্সের সু্যোগটাকে কাজে লাগিয়ে।গঞ্জালেস ও তরুন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের দারুন বোঝাপড়ায় সহজ গোলটি করেন লিও মেসি।৩ য় গোলের দুই মিনিটের মাথায় আবারো আরেকটি গোল, এবার লিও মেসির এসিস্টে ডি-বক্সের বাহির থেকে দূর পাল্লার শটে, ৪র্থ গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ।কুরাসাওয়ের জালে ৩৫ মিনিটেই এক হালি গোল, রীতিমতো গোল উৎসব সাদামাটা এই দলটিকে নিয়ে, মেসিদের ।কিন্তু দলটা যেহেতু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, র্যাংকিংয়ের শীর্ষে যাদের অবস্থান, ছাড় দেওয়ার কোন লক্ষন দেখা যায়নি মেসিদের মাঝে।ম্যাচের ৩৭ মিনিটে লিও মেসির গোলের হ্যাট্রিক, ১০০ গোলের ম্যাচে নিজের হ্যাট্রিকের হাফ সেঞ্চুরিটাও করে ফেললেন এলএমটেন।হাফটাইমের আগেই কুরাসাওয়ের জালে ৫ টি গোল। ডাচ ক্যারিবিয়ান এই দলটি না পারে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে।তবে হাফ টাইমের পর মেসিরা একটু ছাড় দিয়ে খেলার চেষ্টা করে। তবুও ৭৮ মিনিটে আবারো আরেকটি গোল। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন ডি মারিয়া। তবে সবকিছুর মাঝে, কুরাসাওয়ের গোলকিপার দুর্দান্ত কিছু সেভ না ঠেকালে আরো গোলের বন্যা বয়ে যেত এদিন।মেসিদের গোল উৎসবটা শেষ হয় ৮৭ মিনিটে গঞ্জালো মন্টিয়েলের গোলের মাধ্যমে।নতুনদের মাঝে যাদেরকে নামিয়েছেন কোচ স্কালোনি, তারাই দারুন পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন এদিন। নিকো গঞ্জালেস, পাউলো দিবালা মাঠে নেমেই, দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান।কুরাসাও,এদিনটি তাদের ইতিহাস থেকে ভুলে যেতে চাইবে, অবশ্য তাদের থেকেও শক্তিশালি দল ব্রাজিলেরও ৭ গোল হজম করার বাজে ইতিহাস রয়েছে, সেদিক দিয়ে ডাচ ক্যারিবিয়ান এই দেশটি স্বান্তনা পেতেই পারে।



