ফুটবল


কোচ গার্দিওলার যে অভিনব ট্যাকটিসে ম্যান সিটি উড়িয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখকে ।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার

কোচ গার্দিওলার যে  অভিনব  ট্যাকটিসে ম্যান সিটি উড়িয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখকে ।
অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে  হাজার গুনে এগিয়ে থাকা বায়ার্নকে এক প্রকার উড়িয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি।  পেপ গার্দিওলার কৌশলী  ট্যাকটিসে ধরাশয়ী মুলাররা।

ইয়ান সোমার, যে পরিমান সেভ করেছন তা নিসন্দেহে তারিফের দাবিদার । , ৫ টা দুর্দান্ত অমানবিক সেভ না দিলে এই ম্যাচে ৩-০ নয়, আরো ৪ কিংবা ৫ শুন্যতে হারতে হতো বায়ার্ন মিউনিখকে । 

বিশেষ করে ৩৪ মিনিটে গুনদোয়ানের  অতিমানবীয় শট ঠেকিয়ে দেন বায়ার্ন গোলরক্ষক সোমার। তবে সব শট ঠেকিয়ে দিলেও  হাল্যান্ডকে রুখে দিতে ব্যর্থ হন এই বায়ার্ন গোলকিপার। 

ম্যান সিটির গোলকিপার এডারসনেরও উল্লেখযোগ্য কিছু সেভ ছিল, যেগূলো ঠেকিয়ে দলকে আরো 
আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছেন ম্যাচ জিতার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে লেরয় সানির জোরালো শট  তিনি ঠেকিয়েছেন দক্ষতার সাথে।

ম্যান সিটির ডিফেন্ডার রুবেন ডায়াজের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। বায়ার্নের শটগুলো অংকুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। 

ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটে আক্রমনে দুই দলই ছিল সমানে সমানে। দুই দলই চেষ্টা করে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে গিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে। বায়ার্নের চেয়ে ম্যান সিটির আক্রমণগুলোই ছিল অনেক বেশি গুছালো। সিটি খেলোয়াড়দের নিজেদের মাঝে বোঝাপড়াও ছিল দারুণ।

 এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় চমক ছিল গার্দিওলার  ফরমেশন সাজানো।  ফুটবলের পুরনো অনেক ফরমেশন পরিবর্তন করে নতুন উদ্ভাবনী ট্যাকটিস সাজিয়ে সফলতাও পাচ্ছেন এখনো। বিশেষ করে মেসিকে দিয়ে  ফলস লাইন আবিষ্কার করে রীতিমতো তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
 
 এর আগেও বায়ার্নের কোচ ছিলেন গার্দিওলা । সেক্ষেত্রে ওষুধটা কোথায় দিতে হবে সেটা ভালোভাবেই জানেন তিনি। বায়ার্নের বিপক্ষেও কিছুটা ঝুঁকি  নেন পেপ গার্দিওলা। 

তার ৩-২-২-৩ ফরমেশনে চাপে পড়ার সুযো ছিল অনেক। যদিও দ্রুত কৌশলে বদল এনে ৪-২-৪-১ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে সিটি। 

ম্যাচের প্রথম দিকে পরিকল্পনা মাফিক  ডিফেন্সটাকে শক্তিশালী করে   বায়ার্নকে খুব কমই সুযোগ দিয়েছে সিটি। সিটির হাই প্রেসিংয়ের বিপরীতে বায়ার্নকে আক্রমণের তেমন একটা সুযোগ দিচ্ছিলনা তারা।

এরই মাঝে ডিফেন্সটাকে সামলে রেখে ম্যান সিটির আক্রমনটাকে আরো শানিত করে। হাল্যান্ডকে দিয়ে কয়কেবার গোল করার চেষ্টাও করে তারা। 

 ডি ব্রুইনাদের হাই প্রেসিংয়ে নাকাল অবস্থা বায়ার্নের। সেই চাপে গোল বের করতে সময় নেয়নি আর্লিং হাল্যান্ডরা। 

এদিন ম্যান সিটির ভক্তরা মিডফিল্ডার রদ্রির গোলটা মনে রাখবে বহুদিন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির বাঁকানো শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রদ্রি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও  সিটি অবশ্য আক্রমণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবধান দ্বিগুন করতে। 

 ৩৪ মিনিটে বায়ার্ন গোলরক্ষক ইয়ান সোমের অবিশ্বাস্য দক্ষতায়,  গুন্দোয়ানের শট ঠেকিয়ে না দিলে তখনই ব্যবধান ২-০ করতে পারত আলভারেজরা। 

প্রথমার্ধে বল দখলে বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও, গোলের চান্স ক্রিয়েট  করতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। সিটির গোলপোস্ট লক্ষ্য করে প্রথম ৪৫ মিনিটে ৪টি শট নিলেও কোনটিতেই সফল হয়নি তারা।  বায়ার্নের বিপক্ষে অবশেষে দারুন এক পারফর্মেন্স উপহার দেন গোলমেশিন খ্যাত হাল্যান্ড। দলের প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠেছেন দারুনভাবে। গোল করার পাশাপাশি তাকে দেখা গেছে সতীর্থকে দিয়ে গোল করাতেও। 

৭০ মিনিটে  দারুন এক গোলে এসিস্ট করেন হাল্যান্ড । ডিবক্সের ভিতরে জ্যাক গ্রিলিশ থেকে বল পান তিনি । বলটাকে বাড়িয়ে  ডান প্রান্ত থেকে দৌড়ে এসে দারুন এক হেডে  গোল করেন বার্নার্দো সিলভা।

এরপর ৭৬ মিনিটে এবার দুর্দান্ত ক্রস থেকে জন স্টোনসের  হেড থেকে,  নিঁখুত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই নরওয়েজীয় তারকা।













সম্পর্কিত

খেলার খবর

জনপ্রিয়


ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে ৬১২ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি ফিফার

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা উপত্যকায় যখন বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, সড়ক ও খাদ্য উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা চলছে, ঠিক তখনই একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা এসেছে। ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬১২ কোটি ১১ লাখ টাকা) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ব্রাজিলের প্রাথমিক বিশ্বকাপ তালিকায় নেই নেইমার, ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল, তাই এখন দল গঠনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সেলেসাওরা। এই সময়েই আলোচনায় উঠে এসেছে একটি বড় বিষয় কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রাথমিক নিশ্চিত তালিকায় নেই দলের সুপারস্টা

ইউরোপের শীর্ষ লিগে গড়ে তোলা খেলোয়াড়ের তালিকায় বার্সেলোনা শীর্ষে

ফুটবল বিশ্বের মঞ্চে নতুন তারকারা প্রতিনিয়ত আবির্ভাব ঘটছে। তবে সব তারকা সমানভাবে সফল হয় না; কেউ দ্রুত হারিয়ে যায়, আবার কেউ কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে। এই খেলোয়াড়দের পেছনে রয়েছে তাদের তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়ার নানা গল্প।

মরক্কোর কাছে হেরে বিদায়ের মুখে ব্রাজিল

অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে সেলেসাওরা।