

সাল ২০০৮। বাংলাদেশ ফুটবলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন কাজী সালাউদ্দিন। দেশের মানুষের প্রত্যাশা, এই সালাউদ্দিনে ভর করেই ফুটবল পাড়ায় শেষ হবে সব রকমের হতাশা। তবে দিন যত গিয়েছে, কাজী সালাউদ্দিন নামটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটবলের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা। দেশের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের নামটা সালাউদ্দিন, এ নিয়ে সংশয় নেই কারো। খেলোয়াড় সালাউদ্দিন কোচ হিসেবেও ছিলেন দারুণ সফল। কিন্তু সংগঠক পর্যায়ে এসে একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন এই ফুটবল ব্যক্তিত্ব। শুরুটা করা যাক র্যাঙ্কিং নিয়ে। কাজী সালাউদ্দিন বাফুফের সভাপতি হবার বছরে বাংলাদেশ ফুটবলের র্যাঙ্কিং ছিলো ১৬৮। তার আগের বছর ২০০৭ সালে অবস্থান ছিলো ১৫১। এরপর শুধুই পিছিয়ে যাবার গল্প। পেছাতে পেছাতে ১৮৩ পর্যন্ত নেমেছিলো বাংলাদেশের ফুটবল। মাঝে একবার ১৩৮ নাম্বারে এসেছিলো দেশের ফুটবল। সেটা হাজার ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র তৃপ্তি হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। তবে র্যাঙ্কিং এর মাপকাঠিতে ফুটবল ব্যর্থতার বড় বছর ছিলো ২০১৭। সেবার ১৯৭ নাম্বারে নেমে যায় বাংলাদেশ। ভুটানের কাছে হেরে ৩ বছরের জন্য নির্বাসিত হয়ে পড়ে দেশের ফুটবল। এতো গেলো কেবল র্যাঙ্কিং নিয়ে যাবতীয় হিসেব। সাংগঠনিক ভাবেও এই সময়ে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণ করেছেন সভাপতি সালাউদ্দিন। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ঠিক কতজন কোচ এসেছেন তার হিসেব হয়ত সভাপতি নিজেও দিতে লজ্জা পাবেন। শফিকুল ইসলাম মানিক, আবু ইউসুফ, মারুফুল হকের মত দেশীয়রা তো ছিলেনই। সেই সাথে এসেছেন ভুরি ভুরি অখ্যাত বিদেশী কোচ। রবার্ট রুপচিচ, জর্জ ইভানোভস্কি, নিকোলা ইলিয়ভস্কি, লোডভিক ডি ক্রুইফ, অ্যান্ড্রু ওর্ডের মত কোচ এনে কেবল জাতীয় দলের সমস্যাকেই বাড়িয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন সত্যজিৎ দাস রুপু। জাতীয় দলের বাইরে তিনি আবাহনীর ক্লাবেরও ম্যানেজার। নিজ ক্লাবের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে বাড়তি সুবিধা দিতেন রুপু, এমন অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। তবে সেসব কখনো হয়ত কানেই নেননি সভাপতি সালাউদ্দিন। বিগত ১৫ বছরে কখনোই নির্ধারিত সময়ে লিগ শেষ করতে পারেনি বাফুফে। ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে নেই কোন দর্শক। বিশেষ কোন ক্লাবের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন সুর। নিজস্ব প্রচেষ্টায় কর্পোরেট কিছু ক্লাব মাঠে দর্শক আনলেও বেশিরভাগ সময়য় শুন্যই থাকছে গ্যালারি। ফুটবল নিয়ে মানুষের হতাশা এতই বেশি, ফ্রি খেলা দেখার সুযোগ নিতেও নারাজ অনেকেই।সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত দেশের তৃণমূলের ফুটবল। দেশের কখন কোথায় জেলা লিগ চলছে, কবে কোন কাউন্সিলর কি করছেন, সে সম্পর্কে কোন তথ্যই নেই গণমাধ্যমের কাছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সুবাদে কিছু খবর চোখে এলেও বেশিরভাগ সময়েই এসব লিগের খবর থাকে অজানা। নিয়মিত পাতানো খেলা আর ওয়াকআঊট লেগেই আছে এসব লিগে। ফুটবলের জন্য অন্তঃপ্রাণ কাজী সালাউদ্দিনের চোখে অবশ্য এসবের চেয়ে বড় হয়ে আছে তার সভাপতির পদ।



