
সামিউল হক খাঁন শাওনঃ
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দূরাবস্থা চরমে। দিন দিন পতনের মুখে এগিয়ে চলেছে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা। এর মধ্যেই সরকারী চাকরিজীবীদের নূন্যতম বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সোমবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাখা প্রথম ভাষণে সরকারী কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন ২৫ হাজার রুপি করার ঘোষণা দেন। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে এ বেতন স্কেল চালু করা হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই সামস্টিক অর্থনীতির নানান রকম সংকট মোকাবিলা করছে পাকিস্তান:
২০১৯ সালে দেউলিয়াত্ব এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বেইলআউট প্যাকেজের আওতায় ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ চায় পাকিস্তান সরকার। গত চার দশকে দেশটি এভাবে ৬ বার বেইলআউট প্যাকেজের সহায়তা নিয়েছে।
তবে ঋণের শর্ত হিসেবে অর্থনীতি সংস্কার ও সরকারি দেনা কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেয় ইসলামাবাদ। অঙ্গীকার পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না দেখে, গত বছরের অর্থ ছাড়করণ বন্ধ করে আইএমএফ।
এর আগে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবের সাথে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে পাকিস্তান। ইতোমধ্যেই এ ঋণের ১০০ কোটি ডলার ছাড় দিয়েছে সৌদি সরকার। চুক্তি অনুসারে ৩০০ কোটি ডলার এক বছরের জন্য এসবিপি'র সেফ ডিপোজিটে রাখতে সম্মত হয় সৌদি সরকার।
তবে জ্বালানি তেলের বকেয়া মূল্য শোধে ১২০ কোটি ডলার, ৩০০ কোটি ডলার ডিপোজিট এবং জ্বালানি কিনতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ৮০ কোটি ডলার অর্থায়নসহ পাকিস্তান মোট ৭০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিল।
অন্যদিকে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি চাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে পাকিস্তানে। দেশটিতে চিনি, আটা, আখ ও গম চাষে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করা হয়। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে দুধ ও দুগ্ধজাত এবং তুলা উৎপাদনে। সার্বিক চাহিদা মেটাতে এখন আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে দেশটি। স্থানীয় পোশাক শিল্পের চাহিদা মেটাতে উচ্চদামে তুলাও কিনতে হচ্ছে।
আগামীদিনেও থাকবে কম উৎপাদনশীলতার সংকট। যা ইসলামাবাদের চলতি হিসাবের ঘাটতিকে দিতে পারে নতুনমাত্রা। দরিদ্র ও সীমিত আয়ের পাকিস্তানীদের জীবন-জীবিকা তছনছ করে দিতেই থাকবে এই পরিস্থিতি।



