বৃষ্টির জন্য আকাশে রকেট ছুড়ছে চীন। দেশটির দক্ষিণ পশ্চিম এলাকায় তীব্র খরা মোকাবেলায় আকাশে রকেট ছুড়তে বাধ্য হয়েছে কতৃপক্ষ।
মূলত বৃষ্টির জন্য উপযুক্ত না হওয়া মেঘের উপরে ড্রাই আইস এর মতো রাসায়নিক ছিটানো হচ্ছে আকাশে। যে কারণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ রকেট।
রকেটে ছুড়া রাসায়নিকের মাধ্যমে মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে ঝরছে। যদিও অনেক স্থানে পর্যাপ্ত মেঘের অভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বৃষ্টি।
রকেট ছুড়ার এই কাজ যথেষ্ট ব্যয়বহুল। একে বলা হয় ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টি। এশিয়ার সবচেয়ে বড় নদী ইয়াংসির আশেপাশের এলাকায় এমন অপারেশন চালাচ্ছে চীন।
যদিও ইয়াংসি নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে। নদীর কিছু অংশে স্বাভাবিকের অর্ধেকের চেয়েও কম বৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির কর্মকর্তা বলছেন, জলবিদ্যুতের জলাধারে পানি অর্ধেকের মতো কমে গেছে।
হুবাই ও অন্যান্য প্রদেশে এই অপারেশন চালানো হলেও অনেক স্থানে পর্যাপ্ত মেঘের অভাবে বিশেষ রাসায়নিকবাহী রকেট ছোড়া স্থগিত করা হয়েছে।
পৃথিবীতে বর্তমানে যত পরিমাণে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয় তার অধিকাংশই করে থাকে চীন। এমনকি অনেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাদের দেশে অনাবৃষ্টির জন্য চীনকে দায়ী করে আসছে।
এরইমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে চীনকে বৃষ্টি চোর বলেও উপাধি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্লাউড সিডিং করে চীন আগেই বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ফেলছে।
এতে একদিকে যেমন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে শীতল মেঘের সারি অন্য দেশের আকাশে ঢোকার আগেই তারা সেগুলো নিঃশেষ করে ফেলছে।
যদিও ক্লাউড সিডিং পরিবেশের জন্য সত্যিই ক্ষতিকর কিনা এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।
এদিকে চীনের কোনো কোনো এলাকায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সিচুয়ান প্রদেশে তার মধ্যে অন্যতম।
সিচুয়ানের লাখ লাখ বাসিন্দা প্রায়ই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ছেন। এ প্রদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির নিচে রাখতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্মীদের লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রদেশটির লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুিবভ্রাটের কবলে পড়ছে।
প্রায় ৫৪ লাখ মানুষের শহর ডাঝোওতে লোডশেডিং তিন ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
তারা জানিয়েছে, বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমাতে কিংবা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
একই সময়ে তীব্র গরমে চীনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক চাপে পড়েছে।
ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টার জানিয়েছে, দেশটিতে দুই মাসব্যাপী রেকর্ড তীব্র দাবদাহ চলছে।
অপরদিকে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কিনহাইতে ভারি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৩৬ জন।
বুধবার রাতে কিনহাই প্রদেশে হঠাৎ করে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে প্রদেশটির দাতং হুই এবং তু এলাকার পাহাড়ে বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়।
গত জুন থেকে চরম আবহাওয়ার মুখে পড়েছে চীন। তীব্র তাপদাহ ও বন্যার কবলে পড়ছে দেশটি।
সরকার এই আবহাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছে। তারা বলছে, এই পরিবর্তনের জেরে অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব বেড়ে চলেছে।