পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন এবং গ্যাস উৎপাদন করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে পারভেজ মোশারফ নামের এক তরুণ।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার তৈরিকৃত এসব জ্বালানি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চালনা করা যাবে।
ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার সুযোগ পাননি এই তরুন। তবে মাটি ও পানিতে ওই তরল পদার্থ ফেলে আগুন জ্বালাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
এমনকি তৈরিকৃত পেট্রোল ও অকটেন দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়েছেন এলাকার বাইকাররা। শুধু মোটরসাইকেলই নয়, এই জ্বালানি দিয়ে চলছে কৃষিতে ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার ও সেলো মেশিনও।
প্রায় আড়াই বছর আগে ইউটিউবে পলিথিন দিয়ে তেল উৎপাদন করা দেখে পারভেজ এতে উৎসাহী হন এবং তেল তৈরি করা শুরু করেন।
সে সময় তিনি প্রায় ১২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন। পরে সারা দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় আবার শুরু করেন উৎপাদন কার্যক্রম।
এ কাজের জন্য তিনি টিনের তৈরি ড্রাম, লোহা ও প্লাস্টিকের পাইপ, প্লাস্টিকের বয়াম ও কয়েকটি বোতল দিয়ে একটি রিফাইনারি মেশিন বানিয়েছেন।
পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী বদ্ধ তেলের ড্রামে ভরে নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপ দিয়ে সেগুলোাে গলিয়ে তরলে পরিণত করেন।
পরবর্তিতে এগুলো রুপান্তরিত হয়ে জ্বালানি ও গ্যাসে পরিনত হয়। এরপর ওই বদ্ধ ড্রামের সঙ্গে যুক্ত পাইপের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত চারটি বোতলে চলে যায়।
প্রথম বোতলে জমা হয় ডিজেল। দ্বিতীয় বোতলে জমা হয় পেট্রল এবং তৃতীয় বোতলে জমা হয় অকটেন।
শেষের বোতলে রাখা পানিতে পাইপলাইন দিয়ে আসা গ্যাস ঠাণ্ডা হয়ে জ্বালানি গ্যাসে পরিণত হয় এবং শেষ প্রান্তে থাকা স্টিলের পাইপ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
১০ কেজি পলিথিন বর্জ্য থেকে চার লিটার ডিজেল, দুই লিটার পেট্রল, এক লিটার অকটেন পাওয়া যাবে বলে জানান পারভেজ।
পলিথিন ও প্লাস্টিক সহজে না পচায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়। আগুনে পোড়ালে কার্বন তৈরি হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।
আর এই পলিথিন ও প্লাস্টিককে কাজ লাগানোয়, এটি এক দিকে যেমন পরিবেশ ভালো রাখছে অন্যদিকে জ্বালানি তেল উৎপাদিত হচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদন করা গেলে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেল পাওয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এদিকে পলিথিন ও প্লাস্টিককে কাজে লাগিয়ে তেল তৈরি করায় পারভেজের উদ্ভাবনকে বাহবা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
তার তেল তৈরি করা দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করছেন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, এর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষন কমে আসলেও ক্ষতিকারক উপাদানের কারনে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হতে পারে।
সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে উদ্ভাবনী এ কাজের পরিধি আরো বাড়ানোর ইচ্ছা আছে বলে জানান পারভেজ।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, 'এটি একটি ভাল উদ্যোগ। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু ও পরিবেশবান্ধব কি না তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে।
পরিবেশ বান্ধব হলে তা আরো উন্নতভাবে তৈরি করতে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।'