আন্তর্জাতিক


কয়েক সেকেন্ডে ধুলোয় মিশেছে বিশ্বের যেসব বহুতল ভবন।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩১ আগস্ট ২০২২, ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার

কয়েক সেকেন্ডে ধুলোয় মিশেছে বিশ্বের যেসব বহুতল ভবন।

মাত্র ৯ সেকেন্ডেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতের ৩২তলার বহুল আলোচিত অট্টালিকা টুইন টাওয়ার।

উত্তর প্রদেশের নয়ডায় অবস্থিত কুতুব মিনারের থেকেও উঁচু বহুতল ভবন দুটি ৩ হাজার ৭০০ কেজি বিস্ফোরক দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও এমন অসংখ্য ভবন ছিল, যেগুলোকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ করা দেয়া হয়েছে।

আমেরিকার বহুল আলোচিত ভবন ওশান টাওয়ার।  ২০০৬ সালে বিলাসবহুল এই আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।

কিন্তু ঠিক দুই বছর পর নির্মাণ কাজ চলাকালে ৩১ তলা এই ভবনে বিশাল ফাটল দেখা দেয়। 
পাশাপাশি মাটির নিচে প্রায় ১৪ ইঞ্চির মতো অংশ ধসে পড়ে। যে কারণে ভবনটি এক দিকে হেলে যায়। 

ভয়াবহ ভাবে হেলে যাওয়া ভবনটি নতুন করে দাঁড় করানো ছিল কঠিন কাজ। পুননির্মাণ করলেও প্রচুর ব্যয় হতো। 

কার্যকর কোনো সমাধান না পেয়ে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। 


চীনের শিয়ান সিটিতে ছিল দ্য গোল্ডেন ফ্লাওয়ার বিল্ডিং। ৩৮৭ ফুট উচু দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি চীনের বহুতল ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।  

২৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মান কাজ শেষ হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু কোনো কাজেই একে ব্যবহার করা হয় নি। প্রায় ১৬ বছর ফাঁকা পড়ে থাকে। 

২০১৭ সালে ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চোখের পলকে গুড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয় ১২৭০ কেজি ওজনের ডাইনামাইট এবং ১২ হাজার ডিটোনেটর। ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বহুতল ভবনটি মাটিতে মিশে যায়। 


১৪৪ তলা বিশিষ্ট দুবাইয়ের মিনি প্লাজা নামে পরিচিত একটি ভবন চোখের পলকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে শুরু হয় এ ভবনের নির্মান কাজ। 

১৪৪টি তলা এবং চারটি টাওয়ার তৈরি করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই জায়গায় ভবন নয় অন্য কিছু তৈরি করা হবে। 

সেসময় ভবনটির উচ্চতা ছিল ১৬৫ মিটার।
শুধু মাত্র সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের কারণে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটিকে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

২০২০ সালের নভেম্বরে ছয় হাজার কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রায় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে এই বহুতলটিকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়।  


১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের নামে তৈরি করা হয় ‘দ্য ট্রাম্প প্লাজা। আমেরিকার নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থিত ভবনটি হোটেল ও ক্যাসিনো হিসাবে বিশেষ পরিচিত ছিল। 

আটলান্টিক সিটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্রাম্প প্লাজা হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাস ভেগাস হিসেবে অভিহিত করা হতো। 

৩৪ তলার এই বহুতলটিতে হলিউডের অসংখ্য অভিনেতা, রকস্টার ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব পার্টির আয়োজন করত। ভবটিতে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার বিনিময় হতো। 

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হোটেল এবং ক্যাসিনোর ব্যবসার ক্ষতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে সুউচ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন হাজার ডাইনামাইট স্টিক ব্যবহার করে ২০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে এই বহুতলটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

হোটেল ও ক্যাসিনোটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় হাজারো লোক ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখতে আসে। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।