এবার প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের নতুন ভিডিও। উচ্চ রেজ্যুলেশনসম্পন্ন এ ভিডিওতে এমন কিছু বিষয় প্রকাশিত হয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি কখনো।
টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর কেটে গেছে ১০০ বছরেরও বেশি সময়। এতো বছর পরও এটি নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ হয় নেই।
সেই কৌতুহলের টানেই এবার সমুদ্রের গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের তুলনামূলক স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে ওশান গেট নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
সেটিতে দেখা গেছে জাহাজটির ২০০ পাউন্ড ওজনের নোঙরের চেইন, বিশালাকার নোঙর এবং একটি বয়লার। যেটি জাহাজ দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার পর সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
ভিডিওটি দেখার পর রয় গোলডন নামে একজন ডুবুরি বলেছেন, "তিনি কয়েকবার টাইটানিক জাহাজের কাছে গেছেন। কিন্তু এবার এমন কিছু দেখেছেন যা আগে তার চোখে পড়েনি।
ভিডিওতে প্রথমবারের মতো জাহাজটির নোঙর কোন কোম্পানি তৈরি করেছিল সেটিরও নাম দেখা গেছে। এর আগে এগুলো কখনো খেয়াল করেননি তিনি।
তবে ওশান গেট এখানেই থামছে না। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কীভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে জাহাজের বিভিন্ন অংশ, তা বুঝতে আগামী এক বছর বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের অভিযান চালাবে তাঁরা।
অত্যাধুনিক ক্যামেরার সাহায্যে তোলা এমন ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা টাইটানিকের আরও অনেক নতুন তথ্য এবং সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিলাসবহুল জাহাজ টাইটানিক ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে বরফ খণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায়।
সময়টা ছিল ১৯১২ সালের ১৪ ই এপ্রিল রাত ১১.৪০ মিনিট। আনুমানিক ১৫০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছিল জাহাজ ডুবির ঘটনায়।
শেষ পর্যন্ত জাহাজটির ধ্বংসস্তূপটির সন্ধান পেতে সময় লেগেছিল ৭৩ বছর। তবে এই ট্র্যাজেডির পুরো গল্প উন্মোচন হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
বিশাল আকারের টাইটানিক নির্মাণ করেছিল বিট্রিশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি হোয়াইট স্টার লাইন। আরেকটি শিপিং সংস্থা কুনার্ড লাইন এর সাথে বিলাসবহুল জাহাজ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে চেয়েছিল তারা।
কুনার্ড লাইনের দুটি জাহাজ ছিল লুসিটানিয়া এবং মরেটানিয়া। এই জাহাজগুলি ছিল সেসময়কার বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ। হোয়াইট স্টার লাইন তাদের ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছিল।
প্রতিযোগীতায় টিকে তাকতে ১৯০৯ সালের ৩১ শে মার্চ বেলফস্টের হারল্যান্ড এবং ওল্ফের শিপ-ইয়ার্ডে টাইটানিকের নির্মাণকাজ শুরু করে কোম্পানিটি।
জাহাজটি নির্মাণে সময় লেগেছিল প্রায় ২৬ মাস। নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৭.৫ মিলিয়ন ডলার।
জাহাজটির প্রথম এবং সর্বশেষ যাত্রার তারিখ ছিল ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল। সেদিন সাউদাম্পটন থেকে প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল নিউইয়র্ক এর উদ্দেশে।
১৯১২সালের ১৪ই এপ্রিল রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে সমুদ্রে বরফ সম্পর্কে সাতটি সতর্কতা ওয়্যারলেস রুমে এসেছিল। কিন্তু সেটি জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জানানো হয়নি।
সর্বশেষ বরফ সতর্কবার্তার দুই ঘন্টা পরে টাইটানিকের সামনে একটি বিশাল আইসবার্গ দেখা যায়। তখন প্রথম অফিসার লেঃ উইলিয়াম ম্যাকমাস্টার মুরডোচ জাহাজ টিকে ঘুরিয়ে বাম দিকে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে ডান দিকে আইসবার্গটি টাইটানিকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং বিশাল সুরঙ্গ তৈরি হয়। সাথে সাথেই সাহায্যের জন্য রেডিও সংকেত এবং বিপদ সংকেত দেওয়া হয়।
১৫ ই এপ্রিল, রাত ১২ টা ০৫ মিনিট ক্যাপ্টেন স্মিথ ক্রুদের লাইফবোট প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন। মহিলা ও শিশুদের প্রথমে লাইফবোটে রাখা হয়েছিল।
জাহাজে ৬৪ টি লাইফবোট ছিল। ধারন ক্ষমতা থেকে অনেক কম লোক নিয়েই বোট গুলিকে জলে নামিয়ে দেওয়া হয়।
রাত ২ টা ০৫ মিনিট শেষ লাইফবোটটি আটলান্টিকের মধ্যে নামানো হয়েছিল। তখনও টাইটানিকের মধ্যে প্রায় 1,500 জনের বেশি লোক অবস্থান করছিল।
রাত ২টা ১৮ মিনিটে সাহায্যের জন্য সর্বশেষ রেডিও বার্তাটি প্রেরণ করা হয়েছিল, ঠিক তখনি টাইটানিক মাঝ খানে ভেঙ্গে গিয়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। আর রাত ২টা ২০ মিনিটে এটি ডুবে যায়।