আন্তর্জাতিক
আমেরিকাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে পারে চীন
দেড়শ বছর আগে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ ছিল চীন। বিশ্লেষকদের মতে, আবারও সেই স্থান ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।
তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, চীনের সামনে বেশ কিছু বাঁধা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো আ্যপল সহ বড় বড় আমেরিকান টেক জায়ান্টগুলোর চায়না নির্ভরতা কমানো।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতকে কেন্দ্র করে চীনে নিজেদের পণ্য উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ করার চেষ্টা করছে আমেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
আ্যপলের আইফোন থেকে শুরু করে অন্যসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আয় হতো চীনের।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বন্ধ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের অর্থনীতি। এছাড়াও প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণের কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটি।
সরকারী হস্তক্ষেপের কারণে এসব খাতে নিজেদের মেধা পুরোপুরি ব্যবহর করতে পারছেন না চীনারা।
তবে সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো, ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকট দেখা দিতে পারে দেশটিতে। ১৯৭৯ সালে নাগরিকদের উপর সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠিন নিয়ম আরোপ করতে শুরু করে তারা।
যার কারণে বিগত কয়েক দশক ধরেই দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূণ্যের কম। অর্থ্যাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির বদলে হ্রাস পাচ্ছে।
আগামী কয়েক দশকের মধ্যে দেশটিতে বেঁচে থাকা নাগরিকদের বড় অংশ হবেন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধরা।
ফলে, তরুণ, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকটে ভুগতে পারে চায়না। আগামী ১৫ বছরে দেশটির শ্রমশক্তি ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।
ফলস্বরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে উৎপাদন; যার সরাসরি প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির জিডিপি আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কিনা, তা এই বিষয়টির উপর নির্ভরশীল।
ইতিমধ্যেই এই সংকট মোকাবিলার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছে চীন সরকার। নাগরিকদের সন্তান নিতে নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
২০২১ সালের আগ পর্যন্ত, ২টির বেশি সন্তান নেওয়ার অনুমতি ছিল না তাদের। বর্তমানে, সর্বোচ্চ ৩টি সন্তান নিতে পারেন চীনা দম্পতিরা।
তারপরেও বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে সন্তান নেওয়ার তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা।
আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংক, "গোল্ডম্যান স্যাকস্" এর জরিপ অনুসারে, এসমস্ত বাধা অতিক্রম করতে পারলে, ২০৩১ সালে চীনের জিডিপি ৩৮ ট্রিলিয়নের বেশি হবে।
যা দেশটির বর্তমান জিডিপির দ্বিগুণ। এ পরিমাণ জিডিপি দিয়ে সহজেই যুক্তরাষ্ট্র কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির এই রাষ্ট্র।
পাশাপাশি ব্যাপক হারে মুদ্রাস্ফীতিও ঘটবে।
ফলে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য এবং সেবার জন্য চীনা নাগরিকদের ৩০ শতাংশ বেশি মূল্য গুণতে হবে।
শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা ইউয়ান আরও ১৩ শতাংশ বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে কিভাবে সামাল দিচ্ছে তার ওপরেই সবকিছুই নির্ভর করছে।
এর আগে বিভিন্ন সংকটকে তারা যেভাবে মোকাবিলা করেছে তাতে ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে দেশটির সক্ষমতাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
তাই, এই রাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা একেবারেই কম নয়।
গত চল্লিশ বছরে চীনে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটি পরিচিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের মেগা কারখানা হিসাবে। চীনের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে 'অলৌকিক অর্থনীতি' বলা হয়ে থাকে।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক
নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
.jpg)
ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)


