আন্তর্জাতিক
নতুন রাজা চার্লসের জুতার ফিতেও ইস্ত্রী করে দেয় রাজ কর্মচারীরা
সদ্য অভিষেক হওয়া ব্রিটিশ রাজা ৩য় চার্লস মানুষ হিসেবে খুব শৌখিন প্রকৃতির। মা ২য় এলিজাবেথের মতই পরিপাটি পোশাক পরতে পছন্দ করেন তিনি।
রাজবাড়ির কর্মচারীরা প্রতি দিন সকালবেলায় ইস্ত্রি করে রাখে চার্লসের রাতের পোশাক এবং পাজামা। শুধু পোশাকই নয়, রোজ ইস্ত্রি করে দেয়া হয় রাজার জুতোর ফিতাও!
হুকুম করতে ভালবাসেন চার্লস। নিজে হাতে প্রায় কোন কাজই করেন না তিনি। তার প্রত্যেকটি কাজের জন্যই সদা প্রস্তুত থাকেন রাজপ্রাসাদের কর্মচারীরা।
যে টেবিলে বসে চার্লস কাজ করেন সেখানে থেকে একটি কলম সরানোর দরকার হলেও নির্দেশ দিয়ে থাকেন কর্মীদেরকে।
প্রতিদিন দাঁত মাজার সময় টুথ ব্রাশে নিজের হাতে পেস্ট লাগান না তিনি। এর জন্য রয়েছে আলাদা লোক।
অত্যন্ত নিখুঁত কাজ পছন্দ করেন তিনি। তাই ব্রাশে ঠিক এক ইঞ্চি পরিমাণ পেস্ট লাগানোর নির্দেশ দেয়া থাকে। এর থেকে সামান্য কম বা বেশি হলে গ্রহণযোগ্য হয় না রাজার কাছে।
বাথটবে স্নান করেন তিনি। কিন্তু জল ভরে সেটি প্রস্তুত করে দেয় কর্মচারীরা। জলের পরিমাণ এবং উষ্ণতার মাত্রাও একদম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সেই পরিমাপের থেকে একটুও কম বেশী হওয়া চলবে না।
সব বিষয়ে নিজের পছন্দ আর অপছন্দকে অতিমাত্রায় প্রাধান্য দিয়ে থাকেন চার্লস। এর ব্যতিক্রম হয় না, বাথরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও।
বাথরুমে তিনি যে হাই কমোড ব্যবহার করেন, তার আকার একটি নির্দিষ্ট মাপের। সেখানে তার জন্য একটি বিশেষ আসন তৈরি করা আছে।
যখন তিনি প্রাসাদের বাইরে যান তখন আসনটি সাথে করে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে বাইরের বাথরুমের কমোডের উপর সেটি রেখে ব্যবহার করতে পারেন।
বাথরুমের টিস্যু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও খুব শৌখিন আর একরোখা রাজা চার্লস। সাধারণ কোন টিস্যু পেপার চলবে না তার। একটি বিশেষ সংস্থার তৈরি বেগুনি রঙের টিস্যু পেপার ছাড়া অন্য কোনটি ব্যবহার করেন না এই বিলাসী সম্রাট।
খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও ভীষণ রকমের নিয়মানুবর্তী তিনি। রাজপরিবারের প্রাক্তন রাঁধুনি গ্রাহাম নিউবোল্ড এর কাছ থেকে জানা যায়, জলখাবার রাখার জন্য রাজার রয়েছে একটি নির্দিষ্ট বাক্স।
সেই বাক্সে সাজানো থাকে ৬ ধরনের মধু। ইচ্ছেমত এক এক দিন এক এক মধুর স্বাদ নিয়ে থাকেন এই স্বাস্থ্য সচেতন রাজা। তিনি যেখানেই যান না কেন, খাবারের এই বাক্সটি তার সাথে সাথে বহন করে নিয়ে যেতে হয় রাজকর্মচারীদের।
কারণ অন্য কোথাও অবস্থান করলেও রোজকার অভ্যাসে আনা হয় না কোন পরিবর্তন। রাজবাড়িতে তৈরি বিশেষ ধরনের পাউরুটি ছাড়া নাস্তায় অন্য কোন সাধারণ পাউরুটি মুখে দেন না তিনি।
খাবারের তালিকায় পছন্দের দুটি আইটেম চিজ এবং কুকি। কিন্তু এ দুটিও তৈরি করে পরিবেশন করতে হয় একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায়। খাওয়ার বেলায় এতটাই সূক্ষ্মতা অবলম্বন করেন ৩য় চার্লস।
তবে কখনো কখনো রাতের খাবার খেয়ে থাকেন গভীর রাতে। আবার বিছানার পরিবর্তে অনেক সময় নিজের টেবিলে কাগজপত্রের মধ্যেও ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায় তাকে।
স্বভাবের দিক দিয়ে চার্লস বেশ রাশভারী, মিতভাষী, লাজুক এবং সংবেদনশীল প্রকৃতির মানুষ। তবে জনসাধারণের সাথে বেশ সহজ ভাবেই ভাব বিনিময় করতে দেখা যায় তাকে।
তাছাড়া মাঝে মধ্যে হালকা রসিকতাও করে থাকেন তিনি। বয়স ৭০ এর কোঠা পেরলেও এখন বেশ শক্ত সমর্থই আছেন ব্রিটিশ সিংহাসনের বর্তমান শাসক।
ব্যক্তিগত জীবনে যেমন নিয়মানুবর্তী তেমনি, রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যাপারেও বিশেষ সচেতন তিনি। নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে বরাবরই দৃষ্টি রয়েছে তার।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার
ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”
ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

.jpg)






