এবার ম্যারাডোনাকেও ছাপিয়ে গেলেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নিলামে আশাতীত দামে বিক্রি হয়েছে তার একটি জার্সি।
শিকাগো বুলসের হয়ে ১৯৯৮ সালের এনবিএ ফাইনালসে এটি পরেছিলেন তিনি। প্রথমে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হলেও নিলামের পর এটি দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে।
লাল রঙা ২৩ নম্বরের জার্সিটি বিক্রি হয়েছে ১০.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১০৫ কোটি টাকার বেশি। ক্রীড়া জগতে কোনো ব্যক্তিত্বের পরিধান করা সবচেয়ে দামি জার্সি এটি।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথেবি’স জানিয়েছে, জর্ডানের শিকাগো বুলস জার্সিটি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা। সেটি পেতে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে দাম হাঁকান তারা। সবমিলিয়ে ২০তম ডাকে রেকর্ড দামে এটি বিক্রি হয়।
এর আগে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছিল দিয়াগো ম্যারাডনার হ্যান্ড অফ গড জার্সিটি। চলতি বছরেই নিলামে ওঠা সেই জার্সি’র মূল্য চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল সবার। যেটি বিক্রি হয়েছিল ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে।
এবার ম্যারাডোনার সে রেকর্ডও ভাঙলেন জর্ডনের লাস্ট ডান্স। বাস্কেটবলের এক সুনিপুণ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বব্যাপী দারুণ জনপ্রিয় তিনি।
বর্ণময় ক্যারিয়ারে এনবিএ’তে জর্ডান শেষ ম্যাচটা খেলেছেন ২০০৩ সালের ১৬ এপ্রিল ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে। সে ম্যাচেই বাস্কেটবল কোর্টকে চূড়ান্তভাবে বিদায় জানান তিনি।
লাফ দেওয়ার ক্ষমতা এবং দ্রুত বল বাস্কেটে ডাংক করার ক্ষমতাই তার দুর্দান্ত স্কোরিং সাফল্যের রহস্য বলে অনেকে মনে করতেন।
নিজের এই প্রতিভার জন্য অল্পদিনের মধ্যেই তিনি ‘এয়ার জর্ডান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বাস্কেটবল ক্যারিয়ারে বুলসের হয়ে সর্বমোট ৬টি এনবিএ শিরোপা জিতেছেন এ মার্কিন কিংবদন্তি।
তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনের পর হঠাৎ করে ১৯৯৮ সালের মৌসুমেই বাস্কেটবলকে বিদায় বলেছিলেন জর্ডান।
অবশ্য পরবর্তীতে অবসর ভেঙে আবার খেলায় ফিরে আসেন তিনি। ফিরে এসে আবারও একটানা তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেন।
এক সময় অভাবের কারণে কাপড় বিক্রি করতেন এই খেলোয়াড়। তবে পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার হলেন ইতিহাসের সেরা এ খেলোয়াড়।
ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় শিকাগো বুলসের হয়ে খেলা মাইকেল জর্ডান বিশ্বজুড়ে এনবিএ'র জনপ্রিয়তা বাড়াতেও সাহায্য করেছেন।
১৯৮৪ সালে শিকাগো বুলস ক্লাবের প্রথম মৌসুমে খেলার সময় লাল-সাদা নাইকি এয়ার শিপস জুতো জোড়া পরেছিলেন জর্ডান।
সে বছরই নিজের স্বাক্ষরিত পোশাক ও জুতা তৈরির জন্য নাইকি'র সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তার আয়ের একটা বড় অংশ আসে প্রতিষ্ঠানটি থেকে।
নিউইয়র্কভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবাই এর আগে জর্ডানের এক জোড়া স্নিকারও বিক্রি করেছিল, যার দাম ওঠে প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর এবার জার্সির নিলাম দিয়েও গড়লেন রেকর্ড।
বাস্কেটবল জার্সির মধ্যে এর আগে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির রেকর্ড ছিল কোবি ব্রায়ান্টের লস অ্যাঞ্জেলেস লেকারসের ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের জার্সি, যেটির দাম উঠেছিল ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার।
জর্ডানের স্মারকচিহ্নগুলোর মধ্যে এর আগে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছিল ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে অটোগ্রাফ দেওয়া একটি কার্ড, দাম ছিল ২৭ লাখ মার্কিন ডলার।