ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস; পড়তে পারেন পবিত্র কুরআন শরীফ। এমনকি লিখতে জানেন আরবি ভাষাও।
সম্প্রতি রাজা তৃতীয় চার্লস সম্পর্কিত নানান ধরনের তথ্যের পাশাপাশি বেরিয়ে আসে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়তে জানার বিষয়টিও।
গত ৮ সেপ্টেম্বর মারা গিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ শাসক রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তাঁর মৃত্যুর পর কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া ব্রিটিশ সিংহাসনের অধিকারী হন পুত্র চার্লস ফিলিপ আর্থর জর্জ।
রাজা হওয়ার সুবাদে বিশ্বজুড়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয় নানান সব কৌতুহল। যদিও গত কয়েক দশক ধরেই তিনি বেশ আলোচিত একজন ব্যক্তিত্ব।
এর মধ্যে প্রয়াত রাজকুমারী ডায়ানার সাথে তার দুর্ভাগ্যজনক বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
তবে ব্যতিক্রমী আলোচনাও ছিল তাকে নিয়ে। জানা গিয়েছে, রাজা তৃতীয় চার্লসের ইসলাম ধর্মের প্রতি রয়েছে বেশ আগ্রহ।
ব্রিটেনের নতুন এই রাজা ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অধ্যয়ন করেন এবং মুসলিম নেতাদের কাছে লিখা চিঠিতে আরবি ভাষায় স্বাক্ষর করেন।
আর আল কুরআন পড়ার জন্যই তিনি বিশেষভাবে আয়ত্ত করেছেন আরবি ভাষা! লেখক রবার্ট জনসন এর একটি বইয়ে রাজা তৃতীয় চার্লস এর কুরআন শরীফ অধ্যয়নের বিষয়টি উল্লেখিত রয়েছে।
অন্যদিকে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানেও এই ধর্ম সম্পর্কে চার্লস নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন এবং খোলাখুলিভাবে প্রশংসাও করেছেন।
২০১০ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে একটি বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির প্রাচুর্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো স্বেচ্ছাচারী বা অবাধ কোনো সীমা নয়।
এগুলো সৃষ্টিকর্তার দ্বারা আরোপিত সীমা। কোরআন সম্পর্কে আমার উপলব্ধি সঠিক হলে, মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়- তারা যেন তাদের সীমা লঙ্ঘন না করে।’
ওই একই বক্তৃতায় রাজা তৃতীয় চার্লস আরও বলেন: "আমরা এই গ্রহে খুব ভালো একটি কারণে সৃষ্টির বাকি প্রাণীগুলোর সাথে ভাগাভাগি করে বসবাস করি।
কারনটি হলো, আমাদের চারপাশের জীবনের যে জটিল ভারসাম্য রয়েছে, সেটি ছাড়া আমরা নিজেরাই এখানে থাকতে পারি না।
ইসলাম সর্বদাই এই শিক্ষা দিয়েছে। সেটিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে সৃষ্টির সাথে আমাদের চুক্তি ভঙ্গ করা।"
এর পাশাপাশি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যঙ্গাত্মক চিত্রের বিরুদ্ধেও সমালোচনা করেছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে ব্যঙ্গ করে একটি কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিল।
সেই ঘটনার সমালোচনা করেছিলেন তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সফরে গিয়ে। সেখানে তিনি বলেছিলেন,
"সভ্য জাতি হিসেবে আমাদের উচিত অন্যদের কথা শোনা ও অন্যদের কাছে যা মূল্যবান এবং পবিত্র তা সম্মান করা। কিন্তু বিকৃত এই চিত্রে ফুঁটে উঠেছে সভ্যতার চরম ব্যর্থতা।"
সেই সময়ে ভিন্ন ধর্মীয় চার্লসের এই বক্তব্য মুসলিমদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা প্রদান করেছিলো।
এছাড়াও চার্লস তার বিভিন্ন কথার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে কাছাকাছি আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকবার।
তিনি বরাবরই বলে এসেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে।
ইসলামিক বিশ্বের কাছে বৃটিশদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সভ্যতা সম্পর্কে যে অজ্ঞতা রয়েছে তার পেছনেও নিজেদেরকেই দায়ী করেছেন তিনি।
তার মতে এইসব ভুল বুঝাবুঝি মিটে যাওয়া উচিত। একটি দেশে সবাই একসঙ্গে বাস করতে না পারাকে তিনি ব্যর্থতা বলে মনে করেন।
একতার গুরত্ব তিনি পবিত্র কুরআন পড়ার মাধ্যমেই বুঝতে শিখেছেন। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই ধর্মের পবিত্র উৎসব গুলোকেও বেশ গুরত্ব দেন তিনি।
প্রতিবছর রমজান ও ঈদ এলে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেন না চার্লস। তার মতে, রমজান ও ঈদ থেকে উদারতা ও কৃতজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষালাভ করা যায়; যার মাধ্যমে অনুভব করা যায় অন্যরকম এক স্বস্তি।
ইসলাম ধর্মের প্রতি নতুন শাসকের এই অনুভূতি ও ভালোবাসা হতে পারে মুসলিমদের সাথে ব্রিটিশদের পুণর্মিলনের একটি কারণ।