আন্তর্জাতিক


মূহুর্তেই ধসে গেলো পাহাড়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার

মূহুর্তেই ধসে গেলো পাহাড়

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে ধসে গেছে পাহাড়ের বড় অংশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার। ঘটনার স্থান, তাওয়াঘাট লিপুলেখ জাতীয় সড়কের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে। 

পাহাড় ধসের একটি রোমহর্ষক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। টুইটার একাউন্ট থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও তে দেখা যায়, পাহাড়ের বিশাল খন্ডাংশ উঁচু থেকে ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে জায়গাটি হয়ে উঠছে ধুলোময়।

জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাজাং তাম্বা নামক গ্রামের অধিবাসীরা হঠাৎ এক শব্দে চমকে উঠে। তার কিছুক্ষণ পর হুড়মুড় করে ধসে পড়ে গ্রামটির কাছের পাহাড়ের অংশটি।

তাওয়াঘাট লিপুলেখ সড়কটি তীর্থ যাত্রীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ধরে আদি কৈলাশ মানস সরোবরে যান পুণ্যার্থীরা। আদি কৈলাশ হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান।

সেদিন চল্লিশ জনের একটি দল উক্ত পথ ধরে গন্তব্যস্থানে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার আগেই ঘটে পাহাড় ধসের ঘটনা। ফলে তারা সেখানেই আটকে যান।  

পরে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে কর্মরত উদ্ধারকর্মীরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলে। যাত্রীরা মূলত ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লির বাসিন্দা। তাদের কেউ হতাহত হোননি বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলের কাছে ভিয়াস উপত্যকার অন্তত ৫০ গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে হেলিকপ্টার। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে তারা প্রায় চারদিন অবরুদ্ধ ছিল।

গত কয়েকদিন ধরে উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখানো হচ্ছে বিপদ সংকেত। বৃষ্টিপাতের কারনে বিভিন্ন জায়গায় ধস নামার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। ফলে জাতীয় সড়কগুলিতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।  

২৩ সেপ্টেম্বর  উত্তরাখণ্ডের উত্তরাকাশি-গঙ্গোত্রী মহাসড়কটিও বন্ধ হয়ে যায় পাহাড় ধসের কারনে। হেলগুগড় এবং স্বাড়িগড়ের কাছের একটি পাহাড় থেকে আগত বিশাল বড় পাথর এবং পাহাড়ের ধ্বংসাবশেষের কিছুটা অংশ, সোজা রাস্তার উপর ছিটকে পড়লে যান চলাচলে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়। 

এতে  যাত্রীরা হোন ভোগান্তির শিকার। এছাড়া পাহাড় ধসে বিকাশনগর-কলসি-বারকোট জাতীয় সড়কেরও স্বাভাবিক চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।  

সম্প্রতি দেরাদুনে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জন সাধারন চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

উত্তরাখণ্ড উত্তর ভারতের একটি প্রদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিভিন্ন তীর্থকেন্দ্রে জন্য এটি বিখ্যাত। কিন্তু হিমালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চল বিধায় এটি পাহাড়ধস প্রবন এলাকা। 

পাহাড় ধসে মৃত্যু যেন এখানকার স্বাভাবিক ঘটনা। অতীতে বহুবার পাহাড় ধসের কারনে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে এই এলাকাটি। 

১৮৮০ সালের "শের-কা-ডান্ডা ল্যান্ডস্লাইড" এবং ১৯৯৮ সালের "মালপা দুর্যোগ" অন্যতম দুটো পাহাড় ধসের ঘটনা। উত্তররাখণ্ড হিমালয়ের যে অংশটিতে অবস্থিত সে অংশটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। 

যার কারনে প্রতি বছর হিমবাহও বা তুষার ধস, পাহাড় ধস, বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। 

"উত্তররাখণ্ড দুর্যোগ হ্রাসকরন ও ব্যবস্থাপনা" বিভাগ একটি ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, এই অঞ্চলে ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬০০ জন,  আর ৫০০ জন হয়েছে গুরুতর আহত। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।