ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে ধসে গেছে পাহাড়ের বড় অংশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার। ঘটনার স্থান, তাওয়াঘাট লিপুলেখ জাতীয় সড়কের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে।
পাহাড় ধসের একটি রোমহর্ষক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। টুইটার একাউন্ট থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও তে দেখা যায়, পাহাড়ের বিশাল খন্ডাংশ উঁচু থেকে ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে জায়গাটি হয়ে উঠছে ধুলোময়।
জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাজাং তাম্বা নামক গ্রামের অধিবাসীরা হঠাৎ এক শব্দে চমকে উঠে। তার কিছুক্ষণ পর হুড়মুড় করে ধসে পড়ে গ্রামটির কাছের পাহাড়ের অংশটি।
তাওয়াঘাট লিপুলেখ সড়কটি তীর্থ যাত্রীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক ধরে আদি কৈলাশ মানস সরোবরে যান পুণ্যার্থীরা। আদি কৈলাশ হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান।
সেদিন চল্লিশ জনের একটি দল উক্ত পথ ধরে গন্তব্যস্থানে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার আগেই ঘটে পাহাড় ধসের ঘটনা। ফলে তারা সেখানেই আটকে যান।
পরে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে কর্মরত উদ্ধারকর্মীরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলে। যাত্রীরা মূলত ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লির বাসিন্দা। তাদের কেউ হতাহত হোননি বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলের কাছে ভিয়াস উপত্যকার অন্তত ৫০ গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে হেলিকপ্টার। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে তারা প্রায় চারদিন অবরুদ্ধ ছিল।
গত কয়েকদিন ধরে উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখানো হচ্ছে বিপদ সংকেত। বৃষ্টিপাতের কারনে বিভিন্ন জায়গায় ধস নামার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। ফলে জাতীয় সড়কগুলিতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের উত্তরাকাশি-গঙ্গোত্রী মহাসড়কটিও বন্ধ হয়ে যায় পাহাড় ধসের কারনে। হেলগুগড় এবং স্বাড়িগড়ের কাছের একটি পাহাড় থেকে আগত বিশাল বড় পাথর এবং পাহাড়ের ধ্বংসাবশেষের কিছুটা অংশ, সোজা রাস্তার উপর ছিটকে পড়লে যান চলাচলে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়।
এতে যাত্রীরা হোন ভোগান্তির শিকার। এছাড়া পাহাড় ধসে বিকাশনগর-কলসি-বারকোট জাতীয় সড়কেরও স্বাভাবিক চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি দেরাদুনে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জন সাধারন চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
উত্তরাখণ্ড উত্তর ভারতের একটি প্রদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিভিন্ন তীর্থকেন্দ্রে জন্য এটি বিখ্যাত। কিন্তু হিমালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চল বিধায় এটি পাহাড়ধস প্রবন এলাকা।
পাহাড় ধসে মৃত্যু যেন এখানকার স্বাভাবিক ঘটনা। অতীতে বহুবার পাহাড় ধসের কারনে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে এই এলাকাটি।
১৮৮০ সালের "শের-কা-ডান্ডা ল্যান্ডস্লাইড" এবং ১৯৯৮ সালের "মালপা দুর্যোগ" অন্যতম দুটো পাহাড় ধসের ঘটনা। উত্তররাখণ্ড হিমালয়ের যে অংশটিতে অবস্থিত সে অংশটি অত্যন্ত ভঙ্গুর।
যার কারনে প্রতি বছর হিমবাহও বা তুষার ধস, পাহাড় ধস, বন্যা, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে।
"উত্তররাখণ্ড দুর্যোগ হ্রাসকরন ও ব্যবস্থাপনা" বিভাগ একটি ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, এই অঞ্চলে ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬০০ জন, আর ৫০০ জন হয়েছে গুরুতর আহত।