সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, খুব শিঘ্রই হয়তো চাঁদের কোনো একটি অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে পারে চীন।
বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচী ষোল আনা পূর্ণ করেছে দেশটি।
এই প্রসঙ্গে নাসা প্রধান বিল নেলসন জানান, গত এক দশকে চীনের সৌরজগৎ কর্মসুচীর সফলতার হার ঈর্ষনীয়।
তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে চাঁদের দখলদারিত্বের এই প্রতিযোগিতায় ওয়াশিংটনের তুলনায় অনেকাংশেই এগিয়ে রয়েছে চীন।
তার আশঙ্কা, এমন ভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের সাথে চাঁদের সবচেয়ে সম্পদশালী অংশটি নিজেদের করে নিবে বেইজিং।
তাই চীনাদের এই উন্নতিকে মোটেও স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকার দাবি; চাঁদ নিয়ে চীনের সকল পরিকল্পনার পেছনে দেশটির প্রতারণা মূলক উদ্দেশ্য রয়েছে, যা মানব জাতির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
ওয়াশিংটনের এমন বিষ্ফোরক মন্তব্যে পালটা প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূখপাত্র ব্যাঙ্গ করে বলেন, “ বাইরের মহাকাশ কোনো কুস্তির মাঠ নয়।
তিনি আরো জানান, মহাকাশ গবেষণা এবং কর্মসূচী দ্বারা মানবতার উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন। তাই চন্দ্র অভিযান নিয়ে চীন অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
এরই ধারাবাহিকতায় দুই হাজার সতেরো সালে চাঁদের মাটিতে 'চ্যাং ই-ফোর' নামক চন্দ্রযান প্রেরণ করে বেইজিং, এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নিজেদের সক্ষমতার কথা জানান দেয় তারা।
পরবর্তীতে চন্দ্রযানটি পৃথিবীতে ফেরার সময় চাঁদ থেকে বিভিন্ন পদার্থ সাথে করে নিয়ে আসে।
দুই হাজার বিশ সালের নভেম্বর মাসে চ্যাং ই-ফাইভ নামক আরো একটি মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ করে চীন।
মনুষ্যবিহীন এই যানটি চাঁদের “ঝড়ের মহাসাগর” নামক অঞ্চলে সফল ভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এবং ফেরার সময় সেখান থেকে চাঁদের মাটি, পাথর ও বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আসে।
চ্যাং ই-ফাইভের সফল উৎক্ষেপণের পর দেশটির মহাকাশ সংস্থা CNSA- ২০২৫ সালের মধ্যে চ্যাং ’ই-সিক্স নামক আরও একটি মহাকাশ যান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে।
CNSA জানায়, মূলত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চাঁদে তারা চ্যাং ই-সিক্স পাঠাতে যাচ্ছে।
এছাড়া চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানি অনুসন্ধানের জন্য চ্যাঙ ই-সেভেন নামের আরো একটি মহাকাশ যান উতক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
এই অভিযানের সম্ভাব্য সময় দুই হাজার ছাব্বিশ সাল বলে জানায়- China National Space Administration।
চ্যাং ই- সেভেনে করে একটি অরবিটার, লেন্ডার, রোভার, ডিটেক্টর সহ প্রয়োজনীয় আরো বেশ কিছু যন্ত্রাংশ চাঁদের মাটিতে স্থাপণ করবে চীন।
মূলত ডিটেক্টরটির মাধ্যমেই তারা চাঁদে পানির সন্ধান করবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্ববাসী চীনের মহাকাশ কর্মসূচীতে আরও বড়সর অগ্রগতি দেখতে যাচ্ছে।
তারা চন্দ্রযান চ্যাং ই-এইট দ্বারা চাঁদের থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রস্তুত করার পাশাপাশি সেখানকার সম্পদ ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালাতে পারবে।
মহাকাশ জয়ের লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে China National Space Administration এর উন্নতি চোখ ধাঁধানোর মতো ছিল।
CNSA জানায়, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে চাঁদে একজন মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ইতোমধ্যেই তারা মহাকাশে নিজেদের স্পেস ষ্টেশনও চালু করেছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে কতটা মরিয়া চীন।
এই অকল্পনীয় অগ্রগতি দ্বারা আগামি সময়ে চাঁদে নিজেদের শক্তপোক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারবে দেশটি। যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সত্যিই চিন্তার কারণ।
কেননা এর ফলে চাঁদের গুরুত্বপূর্ন অংশে নিজেদের ভাগ বসাবে দেশটি, এবং তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক চেটিয়া রাজত্বে ভাটা পড়বে।
তবে নাসা প্রধান বিল নেলসন জানান, আগামি বছর গুলোতে চাঁদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রেরও একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। যেগুলো তারা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।