আন্তর্জাতিক


ট্যাংক এর পর যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ইউক্রেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার

ট্যাংক এর পর যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির অত্যাধুনিক ট্যাংক পাওয়ার পর, এবার F-16 যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছে ইউক্রেন। আমেরিকার এই যুদ্ধবিমান পেলে, নতুন মোড় নেবে রাশিয়া ইউক্রেন সংকট।

রাশিয়াকে কাবু করতে, একে একে সব ধরনের চাওয়াই পূরণ হচ্ছে ইউক্রেনের। এতদিন সামরিক সহায়তা চাওয়ার প্রেক্ষিতে, হালকা অস্ত্রের যোগান পাচ্ছিল দেশটি।

এরই ধারাাহিকতায়, জার্মানির অত্যাধুনিক লেপার্ড-২ ট্যাংক দাবি করে ইউক্রেন। রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়, জার্মানি প্রথমে কিয়েভকে ট্যাংক দিতে আপত্তি জানায়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের চাপের কারণে, শেষ পর্যন্ত রাজি হয় দেশটি। এছাড়াও বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউক্রেনকে আব্রামস ট্যাংক সরবরাহ করার ঘোষণা দেন।

এর আগে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা পাওয়া ইউক্রেনের, এবারে চাওয়া F-16 জঙ্গি বিমান। রাশিয়াকে সহজে কাবু করতে, এটির জন্যে জোরালো আবেদন জানিয়েছে কিয়েভ।

ধ্বংসাত্মক এই আকাশ যান চাওয়ার পরপরই, ইউক্রেনকে F-16 দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে, মার্কিন জঙ্গিবিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

Financial Times-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, ইউক্রেনের সেনাদের F-16 জঙ্গি বিমান সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।

ইতোমধ্যেই তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান, যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম সারির সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার "ফ্রাঙ্ক সেন্ট জন"।

তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার অর্থ হলো, যেসব দেশের কাছে F-16 রয়েছে, তাদের মাধ্যমেই ইউক্রেনকে দেওয়া হবে ধ্বংসাত্মক এই আকাশযান।

লকহিড মার্টিন কোম্পানি সম্ভাব্য বিমান সরবরাহের আলোচনায় সরাসরি জড়িত থাকবে না। তবে সরবরাহের জন্য যুদ্ধবিমানের উৎপাদন বাড়াবে তারা। এতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ইউক্রেনকে যারা সরবরাহ করবে, তারা সহজে এটি পেয়ে যাবে।

এদিকে, জার্মানির ট্যাংক পাওয়ার আগেই, সেই ট্যাংক চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিল ইউক্রেনীয় সেনারা। 

একইভাবে মার্কিন জঙ্গি বিমান লাভের প্রত্যাশায়, গত মাস থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইউক্রেনের পাইলটরা। তাই জোর গুঞ্জন চলছে, শীগ্রই এই যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছে ইউক্রেন।

তবে দেশটি জঙ্গিবিমান পাওয়ার কথা বললেও, ভিন্ন কথা বলছে জার্মানি। ইউক্রেনে কোনো যুদ্ধ বিমান, কিংবা সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ।

এই যুদ্ধে কোনো অবস্থাতেই পদাতিক সেনা পাঠানো হবে না। একই সাথে ন্যাটোর সেনাবাহিনী সরাসরি কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি যেমনই হোক, ভবিষ্যতে এটির ব্যাতয় হবে না বলেও আশ্বাস দেন।

ন্যাটো'কে কোনোভাবেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্পৃক্ত না করলেও, জার্মানিসহ পশ্চিমা মিত্ররা ইউক্রেনকে অব্যাহত সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি। কিয়েভের সম্ভাব্য সব চাহিদা বিবেচনায় রাখবে পশ্চিমা দেশগুলো। 

তবে ইউক্রেনকে ঢালাওভাবে সহায়তা করে, এই যুদ্ধ যেন রাশিয়া বনাম ন্যাটোর যুদ্ধে পরিণত না হয়, সেদিকেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় ১ বছর গড়াতে চললেও, সংকট নিরসনের বদলে আরো জটিল হচ্ছে। একদিকে রাশিয়ার পিছু হটা, অন্যদিকে ইউক্রেনের শক্তি বৃদ্ধি, এই যুদ্ধকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইউক্রেনের সমর্থনে মিত্র রাষ্ট্রগুলো পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে রাশিয়ার সঙ্গে। জার্মানী ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাংকের পর জঙ্গিবিমান পেলে, সেটি রক্তক্ষয়ী পরিণতি বয়ে আনবে তা এক প্রকার নিশ্চিত।














জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ