চীনের সাথে যুদ্ধে জড়াচ্ছে আমেরিকা! তাও আবার আগামী দু বছরের মধ্যেই! এজন্য সামরিক সব প্রস্তুতিসহ যুদ্ধের জন্য সেনাদেরও তৈরি থাকার নির্দেশ জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী!
সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি অতি গোপনীয় নথি ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর ইতোমধ্যেই ফাঁস হওয়া নথিটি আসল বলে স্বীকারও করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরপর সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা স্বীকার করে বিবৃতিও দিয়েছেন, এয়ার মার্কিন মোবিলিটি কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইক মিনিহান।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে দায়ী তাইওয়ান!
দেশটিতে চীনা কতৃত্ব স্থাপনের প্রচেষ্টায় নাখোশ মার্কিন মুলূক! এরই ফলস্রুতিতে ২০২৫ সাল নাগাদ চীনের সাথে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর জোরালো শংকা রয়েছে বলে জানান তিনি।
চার তারকা বিশিষ্ট এই জেনারেল, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উচ্চপদস্থ সামরিক এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য চীনকে প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজনে পরাজিত করা।
তিনি বলেন, আমি আশা করি, আমার এই শঙ্কা ভুল হোক। তবে আমার চিন্তা-ভাবনা বলছে, আমরা ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়ে পড়বো।
এই ব্যাপারে সত্যতা জানতে চাওয়া হলে, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে স্বীকারোক্তি জানায় পেন্টাগন।
নথিতে গুরুত্বপূর্ন নির্দেশনাগুলোর একটিতে কবে নাগাদ প্রস্তুতি শুরু হবে তাও বলা হয়।ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যে, চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে, জেনারেলকে অবহিত করতে হবে।
সব সদস্যকে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের নম্বর হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।
মার্চের মধ্যে এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের সব সদস্যকে ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর সুরাহা করতে হবে। এই সময়ে তাঁদের একবার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের ‘লিগাল অফিসে’ যেতে বলা হয়েছে, যেন তাঁরা আইনগতভাবে প্রস্তুত হন।
এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের প্রায় ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। তাঁদের হাতে রয়েছে ৫০০ বিমান। যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ ও জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বও রয়েছে বিমানবাহিনীর ওপরে।
চলমান রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের মধ্যে, নতুন সংকট শুরু হওয়ার পেছনে যুক্তি তুলে ধরেন মিনিহান।
তিনি বলেন, আগামী বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধির একটি অজুহাত দেবে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোয়াইট হাউজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
স্ব-শাসিত গণতান্ত্রিক ভূখণ্ড তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য, চীনের কর্মকাণ্ড জোরদার হয়েছে বলে জানান সামরিক এই কমান্ডার।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের সুযোগে শি জিন পিংয়ের দল, ২০২৫ সালে তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে তাইওয়ানকে চীন সরকার একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে। তাই একে চীনের সঙ্গে একীভূত করতে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে শি জিনপিং।
বহির্বিশ্ব থেকে চাপ আসলেও, তাইওয়ান দখল করতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করা হতে পারে বলে, দীর্ঘদিন ধরে হুঁশিয়ার করে আসছে চীন।
দুই দেশের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই গত বছর তাইওয়ান সফর করেন, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
এই সফর ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছায় এবং টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তোলে।
অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে, অনেক আগে থেকেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে চীন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিগত দিক থেকে চীনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন বাইডেন প্রশাসন। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে, প্রযুক্তি খাতে নিজেরা সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দখল করেছে বিশ্ব বাজার। সবশেষ প্রশ্ন থেকেই যায়, চলমান এই বিশ্ব সংকটে পৃথিবী কি আসন্ন মার্কিন-চীন যুদ্ধ সামাল দিতে পারবে?