আন্তর্জাতিক


ন্যাটোর ট্যাংক ধ্বংস করলেই ৭৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার

ন্যাটোর ট্যাংক ধ্বংস করলেই ৭৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার!

ন্যাটোর ট্যাংক ধ্বংস করলেই মিলবে ৭৫ লক্ষ টাকা! এই মোটা অঙ্কের পুরষ্কার পেতে হলে অবশ্যই আব্রামাস কিংবা লেপার্ড ট্যাংক ধ্বংস করতে হবে।  

সম্প্রতি ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত আব্রামস এবং জার্মান লেপার্ড টু ট্যাংক সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর এই ট্যাংক প্রথম ধ্বংস বা আটক করতে পারলেই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে রুশ কোম্পানি ফোরেস সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

চলতি সপ্তাহে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয় রাশিয়ান কোম্পানিটি. . .তাদের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন। কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আশা করছেন এই পুরস্কারের ঘোষণা মস্কোর জয়কে আরো বেশি ত্বরান্বিত করবে। 

সরকারি কোষাগার থেকে এই ঘোষণা না আসলেও বেসরকারিভাবে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র পেসকভ। দেশের ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তারা যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তাতে অবধারিতভাবে জনগণের ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হবে এবং রাশিয়ার জয় নিশ্চিত হবে বলে জানান তিনি।

ফোরেস ছাড়াও এমনি একটি আদেশে সই করেন রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জাবাইকলস্কি অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার ওসিপভ। এই আদেশেও স্থানীয় সেনাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয় যেসব স্থানীয় সেনা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তারা যদি জার্মান অথবা আমেরিকার ট্যাংক ধ্বংস কিংবা আটক করতে পারেন তাহলে তারা নগদ অর্থ পুরস্কার পাবেন। 

এর মধ্যে যারা লেপার্ড ট্যাংক আটক করতে পারবেন তাদেরকে ৪২ হাজার ৯০৯ ডলার দেওয়া হবে। অন্যদিকে এটিকে ধ্বংস করতে পারলে ১৪ হাজার ৩০৩ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

এটি ছাড়াও যারা এইসব ট্যাংক দখল করার কাজে সহযোগিতা করবেন তারা পাবেন ৭ হাজার ১৫০ ডলার অর্থ পুরস্কার। আর যেসব ব্যক্তি জার্মান ট্যাংক ধ্বংস করার কাজে সাহায্য করবেন তাদেরকে দেওয়া হবে ২,২৪০ ডলার পুরস্কার। 

ঠিক একইভাবে আমেরিকার এমওয়ান-আব্রামস ট্যাংক আটক করতে পারলে ২১ হাজার ৪৫০ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। অথবা ধ্বংস করতে পারলে দেওয়া হবে ৭,১৫০ ডলার পুরস্কার।

এসব ছাড়াও রাশিয়ার একটি কেমিক্যাল ফার্ম জার্মানি ও মার্কিন ট্যাংক আটক কিংবা ধ্বংসের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এই সমস্ত পুরস্কারের অর্থ যোগানোর জন্য  ১০ জন ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলেও ওই আদেশে জানানো হয়।

চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের ক্রমাগত সমরাস্ত্র চাহিদার প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে অত্যাধুনিক ট্যাংক পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পায় ইউক্রেন। একদিকে জার্মানি সরকার ইউক্রেনকে ১৪টি লেপার্ড-টু ট্যাংক সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে মার্কিন সরকার ৩১টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আব্রামস ট্যাংক দেয়ার কথা ঘোষণা করে।

জার্মানি এবং আমেরিকার এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের জন্যে আরো সামরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ইতিমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ১১২টি ট্যাংক সরবরাহের ঘোষণা পেয়েছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ট্যাংক পাওয়ার পর যুদ্ধবিমান পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল দেশটির জন্যে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-16 যুদ্ধবিমান চাওয়ার প্রেক্ষিতে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিতে অস্বীকার করে জার্মানি,যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়া হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা জিইয়ে রেখেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন।

এদিকে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিলে সে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর শোলজ। কেননা সেক্ষেত্রে পরমাণু যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে রাশিয়া এমন আশঙ্কাই করেছেন তিনি। 






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।