আন্তর্জাতিক


ভূমিকম্পে তুরুস্কের হাজার হাজার ভবন ধসের কারন কি? একই পরিণতি হতে পারে বাংলাদেশেরও।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার

ভূমিকম্পে তুরুস্কের হাজার হাজার ভবন ধসের কারন কি? একই পরিণতি হতে পারে বাংলাদেশেরও।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত তুরষ্ক! এমনই পরিস্থিতি হতে পারে বাংলাদেশেরও! 

তুরষ্ক তো উতরে উঠবে, এরকম বড়সড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশ কী পারবে সেটা কাটিয়ে উঠতে?  

হাজার হাজার ভবন ধ্বসে তুরষ্ক এখন এক মৃত্যুপুরী। ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে অসংখ্যা মানুষ। 

একদিকে চাপা পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি অন্যদিকে মৃত্যুর মিছিল। 
এমন বিপর্যয়ের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভেঙ্গে পড়া ভবন গুলোর মান! 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মডার্ন কনস্ট্রাকশন স্ট্যান্ডার্ড না মেনে নির্মিত এসব ভবন ,পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সহ্য করতে না পেরে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়েছে।

এসব ভবনের নিচে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে- ১৮,৩৪২ জনেরও বেশি মানুষ, যা দেশটিতে ১৯৯৯ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে, নিহত হওয়ার মানুষের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। 

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রদেশে ভূমিকম্পের কারনে ধ্বসে পড়া ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার। 

এই ভবনগুলো নির্মাণের সময় যথাযথভাবে আইন মানা হয়নি। অধিকাংশ ভবনই জরিমানা দিয়ে বৈধ করা হয়েছিলো। যেগুলোর অধিকাংশই ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়েছে। 

এমনকি, নতুন নির্মিত অনেক ভবনও ভেঙ্গে পড়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ডেভিড আলেকজান্ডারের মতে- "ভূমিকম্পের তীব্রতা ব্যাপক হলেও এতো বেশি ছিলো না যে শক্তপোক্ত ভবন গুলো ধ্বসে পড়বে।

ভূমিকম্পের দিন অধিকাংশ এলাকায় কম্পন সর্বোচ্চ মাত্রার চেয়ে কম ছিলো। 

এরপরও হাজার হাজার ভবন ধ্বসের কারন একটি ,আর তা হলো এসব স্থাপনা ভূমিকম্প সংক্রান্ত নির্মাণ বিধি মেনে তৈরি করা হয়নি।"

উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির দেশ হওয়ায় ,তুরুস্কে ২০১৮ সালেই কঠোর ইমারত বিধি প্রণয়ন করা হয়েছিলো। বিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিলো যে, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ভবন নির্মানে উন্নতমানের কংক্রিট ও ইস্পাতের কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।

সেই সাথে ভবনের কলাম ও বিমগুলো, ভূমিকম্প সহনীয় নকশা অনুয়ায়ী স্থাপন করার নির্দেশও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু অনেক ভবনেই এসবের প্রয়োগ একদমই হয়নি।

২০১৮ সালে তুরুস্কের পরিবেশ ও নগরায়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, দেশটির প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভবন নির্মাণে আইন মানা হয়নি, যা দেশটির মোট ভবনের ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে বিধি না মেনে জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে, সহজেই ক্ষমা পাওয়া যায় দেশটিতে। ষাটের দশক থেকেই চলে আসছে এই নিয়ম।

অথচ ভূভাগে দুটি ফল্ট লাইন থাকার দরুন, বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা তুরুস্ক। সেখানে এমন নিয়ম অনেকটা জেনেশুনে বিষপান করার মত ব্যাপার। 

হয়েছেও তাই, সোমবারের ভূমিকম্পে তুরুস্কের দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ভবন গুলোর মধ্যে ৭৫,০০০ ভবনই এই ক্ষমার আওতায় ছিলো। 
যেগুলো নিয়ম মেনে তৈরি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো কম হতে পারতো। 

তুরস্কের ভূমিকম্প রেট্রোফিট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিনান তুর্কানের মতে-

‘ধ্বসে পড়া ভবন গুলো সঠিক নিয়ম মেনে তৈরি করা হলে সর্বনিম্ন ৫ হাজার বিল্ডিং পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতো।  প্রাণে বাঁচানো যেতো এসব ভবনের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা অসংখ্যা মানুষকে।’ 

তুরস্কের মতই আরেক ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান। অথচ শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও দেশটিতে হতাহতের পরিমান খুবই কম থাকে। কারন তাদের ভবন গুলো ভূমিকম্প সহনীয় করেই নির্মাণ করা হয়।

মানহীন ভবন নির্মাণের কারনে ,ভবিষ্যতে আরো বড় বিপর্যয়ের মূখোমূখি হতে পারে তুরস্ক।
 ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে ,আগামী ৭০ বছরের মধ্যে তুরুস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানবে যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ভবন ধ্বসের কারন হতে পারে। 

আশংকাজনক বিষয় হলো তুরুস্কের মত বাংলাদেশেরও, একই পরিণতি বরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনেকদিন ধরেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। 
৭ মাত্রার একটি  ভূমিকম্পই, ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দিতে পারে রাজধানী ঢাকাকে।

বিশ্লেষকদের মতে এর ফলে, ঢাকায় কয়েক হাজার ভবন ধ্বসে পড়বে। মৃত্যুবরণ করতে পারে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ।

সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধ্বসে পড়তে পারে।

তার উপর শুধু ভবন ধ্বসেই থেমে থাকবে না, সেই সাথে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। যদি এমনটা হয় তাহলে ঢাকা একটি নরকে পরিণত হবে। 

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ঢাকার অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঞ্চালন লাইন!  
বুয়েটের জরিপ অনুযায়ী- ঢাকায় বহুতল ভবনের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ, চট্টগ্রামে ৩ লাখ এবং সিলেটে ১ লাখের মত।

যেগুলোর ৭৫ ভাগই ছয় তলা বা তারও উচুঁ। দেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব ভবনের বাসিন্দারাই সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন যা তুরুস্কের চাইতেও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

ঝুঁকি মোকাবেলায় ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর মানহীন ভবন চিহৃিত করে এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এর চড়া মূল্য দিতে হবে ভবিষ্যতে। 












জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।