আন্তর্জাতিক


মার্কিন ও জার্মান ট্যাঙ্ক ধ্বংস করবে রুশ রোবট


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার

মার্কিন ও জার্মান ট্যাঙ্ক ধ্বংস করবে রুশ রোবট

এবার রোবটের হাতে ধ্বংস হবে অত্যাধুনিক ট্যাংক। যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন এবং জার্মান ট্যাঙ্ককে শায়েস্তা করতে, রাশিয়া নিয়ে এলো নিজেদের তৈরী অত্যাধুনিক এক কিলার রোবট, যার নাম  মার্কার কমব্যাট ।

ইতোমধ্যে রুশ সেনারা ইউক্রেনে দখলকৃত বিভিন্ন অঞ্চল গুলোতে এটি মোতায়েন করা শুরু করে দিয়েছে।

রাশিয়ান মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান এবং বিশেষ সামরিক উপদেষ্টা দিমিত্রি রোগোজিন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকারও করেছেন।

তিনি জানান, দক্ষিণ- পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপুর্ণ এই অঞ্চলে আরো চারটি মার্কার কমব্যাট স্থাপণ করা হবে। 

মার্কার কমব্যাট হচ্ছে মূলত মানববিহীন একটি স্বয়ংক্রিয় যান।  যেটি দেখতে অনেকটা ট্যাঙ্কের মতো, তবে ট্যাঙ্ক নয়।

রোবটটির উপরিভাগের যন্ত্রাংশ গুলোর কারণে এটিকে দেখতে অনেকটা ব্যাটেল ট্যাঙ্কের মতো মনে হয়। উপরিভাগের প্রতিটিই অংশই সেন্সর এবং এরো দ্বারা সাজানো থাকে।

যার মধ্যে ড্রোন উৎক্ষেপণ করার কেসিং, মেশিন গান, এন্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র সহ আরও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্র থাকে। রুশ প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক এই রোবটটির ওজন তিন টনেরও বেশি। 

দিমিত্রি রোগোজিন জানান, কম্পিউটারের ডাটা বেজ সিস্টেমে সঞ্চিত প্রতিপক্ষের বিভিন্ন তথ্য ব্যাবহারের মাধ্যমে, মার্কার কমব্যাট রোবটটি হামলা পরিচালনা করতে সক্ষম।

রাশিয়ার বিশেষ এই সামরিক উপদেষ্টা আরও জানান, লেপার্ড টু এবং আব্রামস ট্যাংক ইউক্রেনের ভূখন্ডে পৌছানো মাত্রই, একটি ইলেকিট্রনিক চিত্র পাবে রোবটটি।

সেই চিত্র দ্বারা মার্কার কমব্যাট শত্রুপক্ষের যান চিহ্নিত করবে এবং সেটির উপর প্রয়োজন মাফিক হামলা পরিচালনা করবে।

তবে, শুধুই মার্কিন এবং জার্মান ট্যাঙ্কই নয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন মিসাইল সিস্টেমকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারবে এটি।

মস্কোর দাবি, তাদের কিলার রোবট এতটাই আধুনিক যে, এটি যে কোনো ধরনের বস্তুই শনাক্ত করতে পারে।

অত্যাধুনিক মার্কার কমব্যাট স্বাধীন ভাবে যে কোনো পরিস্থিতিতে ও যে কোনো ভূমিতে বিচরণ করতে সক্ষম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বা সম্পন্ন এই রোবটটি নিজ থেকেই নিজের টার্গেট নির্ধারণ করতে পারে।

একের অধিক যুদ্ধ সরঞ্জম এক সাথে দেখতে পেলে, রোবটটি নিজ থেকেই যাচাই বাছাই করে নির্ধারণ করবে, কোন যুদ্ধ যানটি তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনটিকে আগে ধ্বংস করা উচিত।

প্রথম লক্ষ্যবস্তুকে আগে ধ্বংস করার পর, পালাক্রমে বাকি যান গুলোর উপর আঘাত হানবে। ইতোমধ্যেই রাশিয়ান সেনাবাহিনী এবং গবেষকরা রোবটটিকে নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরিক্ষা চালানো শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানীর লেপার্ড টু ট্যাঙ্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আব্রামস ট্যাঙ্কের জন্য অনেকটাই হুমকি স্বরূপ হতে পারে এটি।

গেল মাসে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ডাকে সাড়া দিয়ে, বিভিন্ন অস্ত্র সহয়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকা এবং তার পশ্চিমা মিত্র দেশ গুলো।

এরপর থেকেই পুতিন সরকার, রুশ সেনাদের পশ্চিমা ট্যাঙ্ক সহ, অস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করার জন্য নানা ভাবে উৎসাহিত করে আসছিলেন।

প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে পারলে বড় অংকের অর্থ পুরুষ্কার দেয়ারও ঘোষণা দেয় মস্কো।

সেই ধারাবাহিকতায় উন্নত প্রযুক্তির মার্কার কমব্যাটটি রাশিয়ার সামরিক বহরে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এখনো পর্যন্ত বার্লিন এবং ওয়াশিংটন তাদের ট্যাঙ্ক কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করেনি। শক্তিশালী ট্যাঙ্ক গুলোকে পরিচালনা করতে সর্বপ্রথম ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিবে দেশ দুটি।

তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাঙ্ক এখনই না দেয়ার পেছনে পশ্চিমাদের ভিন্ন এক উদ্দেশ্য রয়েছে। রুশ বাহিনী সত্যিই কি লেপার্ড টু এবং আব্রামস ধ্বংস করতে পারবে কিনা, তা নিয়েই বিভিন্ন নকশা আকছেন পশ্চিমারা।

কারন, প্রেসিডেন্ট পুতিন শুরু থেকেই আমেরিকা সহ, ন্যাটোর বাকি সদস্যদের দাত ভাঙা জবাব দেয়ার কথা জানিয়ে এসেছেন এবং প্রতিবারই তিনি তা করে দেখিয়েছেন। 









 









জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।