আন্তর্জাতিক


তুরস্কের ভূমিকম্পের জন্য কি আসলেই যুক্তরাষ্ট্র দায়ী?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার

তুরস্কের ভূমিকম্পের জন্য কি আসলেই যুক্তরাষ্ট্র দায়ী?

তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্পের জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে আমেরিকার অদ্ভুত প্রযুক্তি। ভবিষ্যতে অন্য দেশের সাথেও হতে পারে একই কান্ড।

ডিম্বাকৃতির একটি জাহাজ যেখানেই যায়, সেখানেই ঘটে ভুমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটির ক্ষমতা আছে আবহাওয়া পরিবর্তন করে দেওয়ার। এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো যায় বড়সড় মানবিক বিপর্যয়। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই ছড়িয়ে পরেছে এমন একটি খবর। ভাইরাল পোস্টটি শেয়ার হয়েছে বহুবার। 

ছবি সম্বলিত পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, “জাহাজটি আমেরিকান সংস্থা হার্প এর। এটি সুমদ্রের যে প্রান্তে যায়, সেখানেই ভূমিকম্প হয়। তুর্কির তীরে আসার পর, তুরস্ক ও  সিরিয়ায় ভূমিকম্প হয়েছে। 

তবে কি তুরস্কের ভূমিকম্পের পেছনে আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে? এ নিয়ে অনেকে জেনে অথবা না জেনেই, তথ্য শেয়ার করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

রয়টার্স এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, তুরস্কের ভূমিকম্পের উপর হার্পের কোনো হাত নেই। হার্প কোনো ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে না।

তুরস্কে হার্পের উপস্থিতি ও আমেরিকাকে দায়ী করে, ভূমিকম্প ঘটানোর যোগসাজশ একেবারেই ভিত্তিহীন। বরং এটি আমেরিকার একটি বৈজ্ঞানিক প্রকল্প মাত্র। এর পিছনে মার্কিন সরকারের কোনো হাত নেই।

আর হার্প প্রকল্পের মাধ্যমে আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। ভাইরাল হওয়া ছবিটি আসলে, আমেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোয়িং কর্তৃক নির্মিত, মাঝারি পাল্লার একটি রাডার সিস্টেম, যা SBX-1 নামে পরিচিত।

একটি সমুদ্রগামী অর্ধ নিমজ্জিত জাহাজের উপর, মাঝারি পাল্লার এই রাডার প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে বোয়িং। এটি কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং একটি ইন-ফ্লাইট ইন্টারসেপ্টর কমিউনিকেশন সিস্টেম ডেটা টার্মিনাল নিয়ে গঠিত।

২০০৩ সালে আমেরিকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের জন্য, এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ২০০৫ সালে SBX-1কে, মেরিন ভিত্তিক X-Band রাডার-1 নামে নামকরণ করা হয়েছিল।
  
২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি আমেরিকান বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এই প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছিল। 

যে HAARP নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেটি মূলত একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য আয়নোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ নিয়ে গবেষণা করা। আয়নোস্ফিয়ার হলো, পৃথিবীর পৃষ্ঠের উপরে প্রায় ৫০ থেকে ৪০০ মাইল প্রসারিত একটি নিরপেক্ষ লেয়ার।

রয়টার্স জানায়, হার্প যে ধরনের রেডিও তরঙ্গ তৈরি করে, তা ভূমিতে ১ সেন্টিমিটারেরও কম প্রবেশ করে৷ অপরদিকে  তুরস্কের ২০২৩ সালের ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, ভূমি থেকে ১৭ কিলোমিটার নিচে।

তাই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমিকম্প সৃষ্টি করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এর আগেও তুরস্কের প্রাকৃতিক বিপর্যের পিছনে, হার্পকে দায়ী করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে দেশটির গোলাক অঞ্চলে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর, একই ধরনের দাবী করা হয়

ভূমিকম্প হয় মূলত ভূ-পৃষ্ঠের নিচে থাকা প্লেটের কারনে। অগ্নুৎপাত বা অন্য কোন কারনে এদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে, ব্যাপক শক্তি সৃষ্টি হয়ে তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

একসময় এটি মাটির গভীর থেকে উপরে এসে পৌছায়। বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিতে গিয়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শক্তি অনেক কমে আসে। তবে উপরে আসার পরেও যদি দুর্বল না হয়, তাহলে সেটা ভূতত্তকে কাঁপিয়ে তোলে। এই কাঁপুনিই মূলত ভূমিকম্প।







জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।