ধীরে ধীরে রক্ষণশীলতা থেকে বেরিয়ে আসছে সৌদি আরব! প্রথমবারের মতো মহাকাশে নারী নভোচারি পাঠাতে যাচ্ছে সৌদি আরব! সৌভাগ্যবান এই নারীর নাম রায়ানাহ বার্নাবি!
প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে এই নারীই মহাকাশে যাচ্ছেন! যুবরাজ সালমানের সংস্কার নীতির কারণে গত কয়েক বছর ধরেই রক্ষণশীলতার খোলস থেকে বেরিয়ে আসছে সৌদি আরব।
সৌদি এখন হাঁটতে শুরু করেছে পাশ্চাত্যের আদলে। আর তাই একে একে নারীদের ওপর থেকে কড়াকড়ি উঠিয়ে নিচ্ছে দেশটি!
নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, মাঠে বসে খেলা দেখা, পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই ভ্রমণ, এমনকি সিনেমা হল থেকে শুরু করে হালাল নাইট ক্লাবও চালু হয়েছে যুবরাজ সালমানের আমলে।
সর্বশেষ তারই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মত মহাকাশে নারী নভোচারী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।
দেশটির সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী- চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন- আইএসএস'এ পাঠানো হবে রায়ানাহকে।
সেখানে 'এএক্স-২ স্পেস মিশনে' ক্রু হিসেবে যোগ দিবেন তিনি। এসময় তার সাথে থাকবেন সৌদি আরবের আরেক পুরুষ নভোচারী আলি আল-কারনির।
৩৩ বছর বয়সী রায়ানাহ একজন রিসার্স ল্যাবরেটরি স্পেশালিষ্ট। বায়োমেডিকেল সায়েন্সে দুটি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং রিয়াদের আলফাইসাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন রায়ানাহ।
এ ছাড়াও, নয় বছর ধনে ক্যান্সারের স্টেম সেল নিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে। সৌদি আরবের স্পেস ফ্লাইট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে বার্নাবি এবং আল-কারনিকে মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলের জেনারেল অথোরিটি, প্রতিরক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কিং ফয়সাল স্পেশালিষ্ট হসপিটাল ও গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এই মিশন।
তাদের স্পেস ফ্লাইটটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্য যাত্রা করবে।
এর মাধ্যমে সৌদি আরব বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা একই সাথে নিজ দেশের দুজন নভোচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছে।
এই মিশনের ব্যাকআপ নভোচারী হিসেবে রয়েছেন দেশটির আরেকনারী নভোচারী মরিয়ম ফেরদৌস এবং পুরুষ নভোচারী আল-গামদি। এই দুজনকেও ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছে মিশনের প্রশিক্ষণ!
এর আগে সর্বপ্রথম সৌদি নাগরিক হিসেবে মহাকাশে গিয়েছেন তৎকালীন যুবরাজ সুলতান বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ। তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলট ছিলেন।
১৯৮৫ সালে প্রথম আরব মুসলিম হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযানের অংশ হিসেবে মহাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে, উপসাগরীয় আঞ্চলের দেশ গুলোর মধ্যে প্রথম নভোচারী পাঠানো দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত।
২০১৯ সালে আমিরাতের নভোচারী হাজ্জা আল-মানসৌরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মোট আট দিন অবস্থান করেছিলেন।
বর্তমানে আরেক নভোচারী সুলতান আল-নিয়াদি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠাতে যাচ্ছে দেশটি। যিনি মোট ছয় মাস সেখানে অবস্থান করবেন।
আরব আমিরাতের পথ অনুসরণ করেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিজেদের নভোচারী পাঠাচ্ছে তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরব যা যুবরাজ সালমানের 'ভিশন ২০৩০' এজেন্ডার অংশ।
মহাকাশ সংক্রান্ত এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানী নির্ভর অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
সেই সাথে রক্ষণশীল ভাবমূর্তি সংস্কারে নারীদের বিভিন্ন কাজে অগ্রাধিকার প্রদান করছেন। সংস্কারের অংশ হিসেবেই, নারী পুরুষের সমতা বিধানে এই মিশনে একজন নারী ও একজন পুরুষ নভোচারী পাঠাতে যাচ্ছে দেশটি।
রক্ষণশীলতার খোলশ ত্যাগ করে নারীদের বিভিন্ন অধিকার প্রদান করায় ইতোমধ্যে প্রশংসিতও হয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।