ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া এক নবজাতক শিশুর কানে আজান দিয়ে তার নাম রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
নবজাতক ওই শিশুটির মায়ের অনুরোধে নাম রাখেন ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় থাকা এই বিশ্বনেতা।
গত মঙ্গলবার তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সী একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যেখানে দেখা যায়, ভূমিকম্পে উদ্ধার হওয়াদের দেখতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের একটি হাসপাতালে যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
এক মিনিটের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইস্তানবুল শহরের বাসাকশেহির কাম ও সাকুরা সিটি হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
সেখানে একটি কক্ষে ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়া এক নারীর নবজাতক শিশুকে তিনি কোলে নেন, এরপর নবজাতকের মায়ের অনুরোধে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে প্রথমে আজান দেন।
এরপর বাচ্চাটির নাম রাখেন তুরস্কের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। নবজাতক শিশুটির মায়ের অনুরোধে বাচ্চাটির নাম রাখেন ‘আয়েশা বাতুল’।
এর আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ১০টি প্রদেশে আঘাত হানে সময়ের অন্যতম শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৮ ।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩১ হাজারের বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন ৮০ হাজারেরও বেশি ..
এতে আহত ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়াদের রাজধানীর আঙ্কারা ও ইস্তানবুলসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চিকিৎসা চলছে।
ভূমিকম্পে তুরস্কের ১০টি প্রদেশে প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছে। এই প্রদেশ গুলোর মধ্যে, গাজিয়ানটেপ, হাতায়, আদিয়ামান, মালটিয়া, আদানা, দিয়ারবাকি অন্যতম।
তুরস্কের পাশের দেশ সিরিয়াতেও বেশ প্রভাব দেখা গেছে এই ভূমিকম্পের। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন সেখানে। জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর এই ভূমিকম্পে দুই দেশ মিলে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারাতে পারে।
ভূমিকম্পের প্রায় ১০ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও বিভিন্ন ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবত মানুষ উদ্ধার করা হচ্ছে। সর্বশেষ এক নারী ও তার দুই শিশুসন্তানকে ২২৮ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ধরণের অসম্ভব কাজও সম্ভব হচ্ছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের প্রভাব ও একজন শাসক গুণাবলী থাকার কারণে। দেশের এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মহল থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ঠিক রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তুরস্কের এই শাসক।
এখন মানবতার দিক ঠিক রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উদ্ধার কাজ এখনও চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর জন্য তুরস্কের প্রশাসন বহির্বিশ্বে প্রশংসার দাবি রাখে।
তবে, বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ মে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। আর এই আসন্ন নির্বাচনকে এরদোগানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। আবার, নির্বাচনের তিন মাস আগে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে তিনি হয়তো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন।
ভূমিকম্পের আগে তুরস্কে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচন এরদোগানের জন্য সহজ হতে যাচ্ছে না। নির্বাচনে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে।
ভূমিকম্পের পর সরকারি পদক্ষেপে তাঁর সরকারের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট ও তার সরকার।
এর কিছুদিন আগেও মানবিক ভূমিকায় দেখা যায় এরদোগান কে, কাহরামানমারাসে ভূমিকম্প-দুর্গত এক কান্নারত নারীকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তুরস্কের বর্তমান সুলতান সুলেমান খ্যাত প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে।