আন্তর্জাতিক


কালিনিনগ্রাদ আতঙ্কে ইউরোপের ঘুম হারাম


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার

কালিনিনগ্রাদ আতঙ্কে ইউরোপের ঘুম হারাম

মাত্র ১ হাজার ৫০০ বর্গ কিলোমিটারের এক রাশিয়ান প্রদেশ, ঘুম হারাম করে দিয়েছে পুরো ইউরোপের। রাশিয়ার ছোট এক বিচ্ছিন্ন প্রদেশ,” কালিনিনগ্রাদ” নিয়ে আতঙ্কিত পশ্চিমা বিশ্ব। পোল্যান্ড আর লিথুনিয়ার মাঝে থাকা ছোট এই অঞ্চল নিয়ে, নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য সবাই। 

সম্প্রতি চীন রাশিয়া মিত্রতা আর যুদ্ধের হুমকি, গুরুত্ব বাড়িয়েছে বিচ্ছিন্ন রাশিয়ান অংশটির। ভৌগলিকভাবে কালিনিনগ্রাদ রাশিয়া থেকে পুরোপুরি আলাদা। এর একপাশে পোল্যান্ড, অন্যপাশে লিথুনিয়া। রাশিয়া থেকে কালিনিনগ্রাদ পৌঁছাতে হলে, অন্তত দুইটি দেশ পাড়ি দিতে হয়।

লিথুনিয়া এবং লাটভিয়া পার হয়েই, রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানো সম্ভব। আর আকাশপথে যেতে চাইলে, পেরিয়ে যেতে হবে বাল্টিক সাগর আর ফিনল্যান্ড উপসাগর।  

কালিনিনগ্রাদ ঘিরে আছে, ন্যাটো জোটের চার দেশ- পোল্যান্ড, লিথুনিয়া, লাটভিয়া আর এস্তোনিয়া। কিন্তু এমন সামরিক শক্তিধর অঞ্চলে, সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার এই বিচ্ছিন্ন  অংশটি। 

২য় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি থেকে পাওয়া এই অংশটিতে, রাশিয়া নির্মাণ করেছে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি।
 ধারণা করা হয়, এখান থেকেই, ইউরোপের অন্তত চারটি বড় দেশে, হামলা করতে সক্ষম রাশিয়া। 

ছোট এই প্রদেশ থেকে-  পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ, জার্মানির বার্লিন, সুইডেনের স্টোকহোম এবং ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে,  অনায়াসে হামলা চালাতে সক্ষম রাশিয়ান সামরিক বাহিনী। 

রাশিয়ান নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিট এর সদর দফতর, এই কালিনিনগ্রাদ অংশে। এটি রাশিয়ার একমাত্র নৌঘাঁটি, যা শীতকালে বরফে জমে যায় না। 
ফলে সারাবছরই এখান থেকে, যেকোনো নৌ-হামলা চালাতে সক্ষম রাশিয়ান নৌবাহিনী। এমনকি যেকোনো পরিস্থিতিতে, ন্যাটো “রাশিয়া” আক্রমণ করতে চাইলে, পেরতে  হবে কালিনিনগ্রাদের বাঁধা। 

আগেই ক্রিমিয়া দখল নেয়ার কারণে, বাল্টিক সাগর ছাড়া রাশিয়ার মূল ভূখন্ডে পৌঁছাবার উপায় নেই পশ্চিমা বিশ্বের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমার অনেকটাই, রাশিয়ান নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের অধীনে। 

সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় তাই পুরো ইউরোপের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে কালিনিনগ্রাদ।
 কারণ শুধু বাল্টিক প্রণালী আটকে দিলেই, এই অঞ্চলের সূত্র ধরে অনায়াসে লিথুনিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়ার দখল নিয়ে নিতে পারে রুশ বাহিনী।  

কালিনিনগ্রাদ থেকে রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার। এই ক্ষুদ্র পথটিও, সমগ্র ইউরোপের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা। 

গত বছর বেলারুশের মধ্য দিয়েই ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছিলো রাশিয়া। আর এই ৬৫ কিলোমিটার পথ দিয়েই, বেলারুশের সাহায্যে- এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুনিয়াকে আলাদা করে নেয়া সম্ভব। 

ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে, বেলারুশ ও কালিনিনগ্রাদ দ্বারা, পূর্ব ইউরোপ নিজেদের দখলে আনতে পারবে তারা।এসব সমীকরণ সামনে রেখে, কালিনিনগ্রাদকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করেছে পুতিন সরকার। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর, এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি, অনেকটা বাড়িয়ে নেয় রাশিয়া। 

কালিনিনগ্রাদে অবস্থিত “চেরনিয়াভস্ক” বিমানঘাঁটি, মস্কোকে বাল্টিক সাগরের পুরোটা নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। বিগত বছরুগুলোতে ন্যাটোকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে, এই অঞ্চলে ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

 রুশ সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ, সর্বদা এই অঞ্চলে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে থাকে। ২০১৬ সাল থেকে এই অঞ্চলের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করা হয়। 

রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত এবং আধুনিক সব অস্ত্র আনা হয়, এই সামরিক ঘাঁটিতে।বর্তমানে এস-৪০০ ক্ষেপনাস্ত্র এবং ভেরোনেজ ডিএম রাডার সিস্টেম রয়েছে। মূলত এরই সাহায্যে ইউরোপের বড় রাষ্ট্রগুলোকে হুমকি দিয়ে আসছে রাশিয়া।

এই ক্ষেপনাস্ত্র কালিনিনগ্রাদ থেকে, ৬ হাজার কিলোমিটার দূরেও, নিখুতভাবে আঘাত করতে পারে। এছাড়াও রাশিয়ার বিমানবাহিনীর, একটি শক্তিশালি বিমানঘাটির অবস্থান আছে এই অঞ্চলে। ২০১৬ সালে এখানে নিয়ে আসা হয়, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম “ইস্কান্দার মিসাইল”। এসব বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা, ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর সামনে আরও একবার, ইউরোপের মাথাব্যাথার কারণ হতে চলেছে কালিনিনগ্রাদ। 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।