আন্তর্জাতিক


ইউক্রেনকে আর সাহায্য না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্টের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ মার্চ ২০২৩, ০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার

ইউক্রেনকে আর সাহায্য না করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্টের

লোকে বলে, আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর অভাব হয়না। প্রচলিত এই বাক্যের প্রমাণ দিয়ে যেন পাঠার বলি হলো ইউক্রেন। রাশিয়ার কাছে ক্রমাগত হারের মুখে যখন নাস্তানাবুদ ইউক্রেন, তখন ইউক্রেনকে আর সহায়তা না করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন স্পিকার।

শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে কিয়েভ সফরের আমন্ত্রণ জানালে সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পিকার ম্যাকার্থি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আহ্বানে সারা না দিয়ে ইউক্রেনকে সামরিক কিংবা আর্থিক সাহায্য না করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন স্পিকার।

মূলত রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অক্ষুন্ন রাখার ব্যবস্থা করতেই মার্কিন স্পিকারকে কিয়েভ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। পাশপাশি আমেরিকার পক্ষ থেকে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা আদায় করাই ছিল এই নিমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু ইউক্রেনের এই পরিকল্পনা কে অপ্রত্যাশিতভাবে ভেস্তে দিয়েছেন মার্কিন স্পিকার। ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দেয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই আর সমর্থন করবেন না তিনি। যদিও এর আগে গত বছর কয়েকশ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজে সমর্থন দিয়েছিলেন এই ম্যাকার্থিই।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বুধবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মার্কিন স্পিকারের সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানান জেলেনেস্কি ।

তিনি বলেন, "মিস্টার ম্যাকার্থি আপনি এখানে আসুন এবং দেখুন আমরা কিভাবে কাজ করছি, এখানে কী ঘটছে, যুদ্ধের কারণে আমরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং এখানকার মানুষ কিভাবে যুদ্ধ করছে। এগুলো দেখে আপনি আপনার সিদ্ধান্ত নিন।"

জেলেনস্কি দাবি করেন, স্পিকার ম্যাকার্থি ইউক্রেন সফর করলে তার অবস্থানে পরিবর্তন আসবে। রাশিয়ার মিত্রদের চাপেই মার্কিন স্পিকারের এমন অবস্থান হতে পারে বলে ধারণা করছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। তাই স্বচক্ষে দেখতে মার্কিন এই স্পিকারের সফর গুরুত্বপূর্ন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত আমেরিকার ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট ও বিরোধী রিপাবলিকান দলের বহু নেতা ইউক্রেন সফর করেছেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি কিয়েভ সফর করেছেন

বর্তমান স্পিকার ম্যাকার্থি গত জানুয়ারিতে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত ইউক্রেন সফরে যান নি। সিএনএন টেলিভিশনকে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার এই অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না। ম্যাকার্থি আবারো বলেছেন, রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে তিনি কোনোভাবেই ইউক্রেনকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দেবেন না।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা, সামরিক সরঞ্জাম ,অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা এবং ও ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সাহায্য পাঠানোর সময়  প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর থেকেই হোয়াইট হাউস, এবং কিছু রিপাবলিকান ইউক্রেনে অতিরিক্ত অস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য পাঠানোর বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তাই ইউক্রেনে যুক্তরাষ্টের সহায়তা একধরনের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন করেন, তবে হাউস রিপাবলিকানরা ইউক্রেনকে আর " ফাঁকা চেক" প্রদান করবে না।  কিয়েভকে সহায়তা কিভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তা ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই করেই তবেই নতুন সিদ্ধান্তে আসবে তারা।

সম্প্রতি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ন শহরগুলোতে আক্রমণ বাড়িয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। একের পর এক এলাকা যখন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান চিন্তার ভাঁজ ফেলবে ইউক্রেনের কপালে।





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ