আন্তর্জাতিক


বুর্জ আল আরবের হেলিপ্যাডে বিমান অবতরণ করে পাইলটের রেকর্ড।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ মার্চ ২০২৩, ০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার

বুর্জ আল আরবের হেলিপ্যাডে বিমান অবতরণ করে পাইলটের রেকর্ড।

দুবাইয়ের আইকনিক ভবন বুর্জ আল আরব। পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের এই হোটেলের ৫৬ তলায় আছে নিজস্ব হেলিপ্যাড।

এবার এই উচ্চতর হেলিপ্যাডে বিমান অবতরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন লুকাস চেপিয়েলা নামক এক পোলিশ ব্যাক্তি। এর আগে স্থল স্তর থেকে এতো উচ্চতায় বিমান অবতরণ করেনি কোনো পাইলট। 

২৭ মিটার ব্যাসের ওই হেলিপ্যাডে বিমান ল্যান্ড করানো এতো সহজ ছিল না। ২০২১ সালে তিনি পোল্যান্ড, আমেরিকা এবং দুবাইতে ৬৫০ বার অবতরণ অনুশীলন করেছেন ।

এরপরও বুর্জ আল আরবের হেলিপ্যাডে প্রথমবারেই সফলতা পাননি তিনি। পরপর দু বার হেলিকপ্টারটি অবতরণে ব্যর্থ হলেও তৃতীয়বার সফল হন।

বিমানটিকে ৪৩ কিলোমিটার ঘণ্টা বেগে মাত্র ২০.৭৬ মিটারের মধ্যেই থামাতে সক্ষম হন। চেপিয়েলা মূলত পেশাদার এয়ার রেস পাইলট। তিনি এয়ারবাস এ320এর ক্যাপ্টেন।

অবতরণের পর তিনি বলেন, “এটি সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।  এখানে কোনও বাহ্যিক রেফারেন্স ছিল না, যা সাধারণত বিমানবন্দরের শত শত মিটারের রানওয়েতে থাকে।”

সুউচ্চ এই হেলিপ্যাডের বিল্ডিংটি আরব-বিশ্বের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি আরব আমিরাতের শাসক শেখ নাহিয়ানের পারিবারিক সম্পত্তি।

জুমেরিয়া বিচের পাশে সমুদ্রের মাঝে একটি কৃত্রিম দ্বীপের ওপর ১৯৯৪ সালে বুর্জ আল আরবের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল।

৫ বছর ধরে চলা নির্মাণ কাজ শেষে ১৯৯৯ সালে খুলে দেয়া হয় এই ভবনের দরজা।

বিশাল এই বিল্ডিংটি নির্মাণে লেগেছে ৭০ হাজার ঘনমিটারেরও বেশি কংক্রিট এবং ৯ হাজার টন স্টিল। সমুদ্রের তলদেশে এর ভিত্তি নির্মাণ করতেই সময় লেগেছে ৩ বছর।

হোটেলটির ভিত্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সমুদ্রের নিচের বালির মধ্যে ২৩০টি ৪০ ফুট দীর্ঘ কংক্রিটের খুঁটি প্রবেশ করানো হয়।   

মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি সেতুর মাধ্যমে। তবে বিলাসবহুল হোটেলের নিজস্ব এই সেতু ব্যবহার করতে পারেন , শুধুমাত্র হোটেলের কর্মী ও অতিথিরা।

হোটেল ভবনের প্রত্যেকটি ফ্লোর দুইতলা করে। মোট কক্ষ আছে ২০২টি। হোটেলের প্রতিটি স্যুট প্রাচ্যের আভিজাত্য আর পাশ্চাত্যের প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি।

সবচেয়ে ছোট স্যুইটটির আকৃতি ১,৮১৯ স্কয়ার ফিট এবং সবচেয়ে বড় স্যুইটটির আকৃতি ৮,৩৯৬ স্কয়ার ফিট।

স্পা-কর্নারের সমান একেকটি বাথরুম, মোজাইক করা মেঝে আর দেয়ালে আরবি জ্যামিতিক ফর্মের প্রভাবে পেয়েছে শিল্প-নিপুণ ছোঁয়া।

সে আরবি জ্যামিতি’র প্রভাব ভবনের অন্য সব কোণেও খুঁজে পাওয়া যায়।

হোটেলের ভিতরে চোখ ধাঁধিঁয়ে যায় সোনার ছটায়। অন্দরসজ্জা, ঝাড়বাতি থেকে আসবাবপত্র- সব কিছুতেই খাঁটি সোনার উজ্জ্বল উপস্থিতি।

আয়নার ফ্রেম থেকে টেলিভিশনের বর্ডার- সব কিছুই ঢেকেছে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপে।

রিমোট কন্ট্রোলে চলে হোটেল স্যুটের ভেতরের দরজা, জানালার পর্দা খোলার কাজ।

টিভি, টেলিফোন, ইন্টারনেট, লাইব্রেরিসহ হোটেলের ঘুমানোর জন্য খাটটিও ঘূর্ণায়মান।

এই হোটেলের ৬টি রেস্তরাঁয় সাজানো আছে বিশ্বের নানা প্রান্তের খাবার। সেগুলির মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় হল ‘গোল্ড অন ২৭’।

বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত বারটেন্ডাররা তৈরি করেন বিশেষ পানীয়, যার রেসিপি গোপন রাখা হয়। বিশেষ রকমের পানীয় তৈরিতে আঙুর রসের সঙ্গে মেশানো হয় সোনার গুঁড়ো।

সাত তারকা হোটেল হিসেবে খ্যাত ‘বুর্জ আল আরবের প্রতিটি রুমে রয়েছে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের আইপ্যাড।

রেস্তোরাঁগুলোর খাবার মেনুসহ সব ধরনের সুবিধাদি আইপ্যাড থেকে একজন অতিথি জেনে নিতে পারবেন।





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।