রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাশিয়া যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর মধ্যে শি জিনপিং (Xi Jinping)-কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পুতিন।
২০ শে মার্চ, রাশিয়া যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তাঁকে স্বাগত জানাবেন স্বয়ং পুতিন।
তৃতীয়বারের মতো চিনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন শি। ২০১৯ সালের পর প্রায় চার বছরের মধ্যে এই প্রথম রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত - আইসিসি মাত্র তিন দিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী বলে ঘোষণা করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর একদিকে যেমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে, জিন পিং পুতিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নিয়ে রাখার অভিযোগে ১৭ই মার্চ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এবং এটি করার পর শি জিনপিংই প্রথম বিশ্ব নেতা যিনি পুতিনের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন।
এর মধ্য দিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই সফরকে রাশিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ এই সফরের মাধ্যমেই পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে রাশিয়া বার্তা দেবে যে তাদের পাশে শক্তিধর বন্ধু দেশ রয়েছে।
আগামী ২০ থেকে ২২ মার্চ পুতিনের আমন্ত্রণে মস্কোতে অবস্থান করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এসময় বেশ কয়েকটি বৈঠক হবে, ‘এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি’ করা হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়াতে পুতিন ও জিনপিং বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন বলেই জানা গেছে।
দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একাধিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, প্রধান আলোচনায় বিষয় রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধই হবে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া সফরের আগেই সম্প্রতি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা পালন করতে পারে চিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও চিনের এই ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে, যেভাবে পুতিন ও রাশিয়াকে একঘরে করতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা ও পশ্চিমী বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি, তার জবাবে চিনের রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানো বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর এক বছর হতে চলেছে। এ হামলা শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে অভিযোগ তুলে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোকে একঘরে করার সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও চীনকে ‘পাশে’ পেয়েছে রাশিয়া। তাই বেইজিংয়ের অবস্থান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
কথা ছিলো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে চীন একটি ‘নিরপেক্ষ এবং ন্যায্য’ অবস্থান নেবে এবং শান্তির লক্ষ্যে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কিন্তু, একটি সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন, “চীন আসলে রাশিয়াকে অস্ত্র দিতে চায়, তাদের এটা মনে হয় না যে এই সফরের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে। মস্কোতে চীনা নেতার এই আসাটা আসলে গোটা বিশ্বের কাছে একটা বার্তা। এখানে, এর কোন তাৎক্ষণিক ফল নেই”।
কুলেবা আরও বলেন, “এই সফরের মাধ্যমে হয়তো এরকম একটা বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, চীন এবং রাশিয়া খুব ঘনিষ্ঠ। এতটাই ঘনিষ্ঠ যে চীনা নেতা রুশ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন, যিনি এখন কিনা খুব ভালো অবস্থানে নেই।”
অবশ্য চীন এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে।
তবে একটি বিষয় সকলের ই নজরে এসেছে, পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সেটির নিন্দা কখনো জানায়নি বেইজিং। এমনকি রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘আক্রমণ’ বলা থেকেও বিরত থেকেছে চীন।